Your Ads Here 100x100 |
---|
নুর রাজু, স্টাফ রিপোর্টার
ভূমধ্যসাগরে বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া দুটি আলাদা নৌকাডুবির ঘটনায় মোট ১৬ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে গ্রিসের উপকূলে একটি দুর্ঘটনায় সাতজন এবং তুরস্কের উপকূলের কাছে আরেকটি ঘটনায় নয়জন মারা গেছেন।
গ্রিসে নৌকাডুবি: সাতজনের মৃত্যু
গ্রিসের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, লেসবস দ্বীপের নিকটবর্তী এলাকায় একটি ফোলানো নৌকা ডুবে যাওয়ায় দুই শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রথমে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে টহল নৌকার মাধ্যমে আরও তিনটি মরদেহ পাওয়া যায়। নৌকাটি তুরস্কের উপকূল থেকে খুব কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও ভালো আবহাওয়ার মধ্যে ডুবে যায়। উপকূলরক্ষী বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, নৌকায় পানি ঢুকে এটি ডুবে যায়। বেঁচে থাকা অন্যদের খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। মৃতদের মধ্যে চারজন নারী, একজন কিশোর ও একজন কিশোরী রয়েছেন। তবে বাকি তিনজনের পরিচয় বা জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তুরস্কে নৌকাডুবি: নয়জন প্রাণ হারালেন
অন্যদিকে, তুরস্কের পশ্চিম উপকূলের আয়ভাজিক জেলার কাছে আরেকটি নৌকা ডুবে গেলে নয়জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়। স্থানীয় গভর্নরের কার্যালয় ও উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও একজন নিখোঁজ রয়েছেন, যাকে খুঁজতে তল্লাশি চলছে। নিহতদের জাতীয়তা এখনো জানা যায়নি।

ভূমধ্যসাগর: মৃত্যুর মিছিল
ভূমধ্যসাগরের এই পথটি অভিবাসীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত বছর এই রুটে প্রায় ২,৫০০ মানুষ মারা গেছেন। গত মাসেও গ্রিক মেরিটাইম পুলিশ জানিয়েছিল, একজন দালালের পরিত্যাগের পর এক অভিবাসী মারা যান এবং ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে প্রায় ৯,০০০ অভিবাসী গ্রিসে প্রবেশ করেছেন, যাদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে এসেছেন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৪,০০০।

গ্রিসের কঠোর নীতি
গ্রিসের রক্ষণশীল সরকার অভিবাসনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। বুধবার পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস বলেন, “যারা অবৈধভাবে গ্রিসে প্রবেশ করতে চায় এবং আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য নয়, তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা সব সম্ভব পদক্ষেপ নেব।” তিনি আরও যোগ করেন, “দালাল বা তাদের সঙ্গে কাজ করা এনজিওরা আমাদের দেশে কে প্রবেশ করবে, তা নির্ধারণ করতে পারবে না।”
এই দুঃখজনক ঘটনাগুলো ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অভিবাসীদের জীবনের ঝুঁকি আরও একবার স্পষ্ট করে তুলেছে।