Your Ads Here 100x100 |
---|
নুর রাজু, স্টাফ রিপোর্টার
বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি ঘোষণার পরদিন বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে তীব্র পতন লক্ষ্য করা গেছে। এই শুল্কের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার এবং অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ৫০০ কোম্পানির সমন্বিত সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ৪.৮% কমেছে, যা ২০২০ সালে কোভিড সংকটে অর্থনীতি ভেঙে পড়ার পর থেকে সবচেয়ে বাজে দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দিনের শুরু থেকেই এশিয়া ও ইউরোপের আর্থিক বাজারগুলোতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বড় ব্র্যান্ড যেমন নাইকি, অ্যাপল এবং টার্গেট সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে, তাদের শেয়ারমূল্য ৯ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এই শুল্ক আমেরিকার অর্থনীতিকে “সমৃদ্ধ করবে”। তিনি আমদানিকৃত পণ্যে ন্যূনতম ১০% শুল্ক বহাল রাখার পক্ষে জোর দিয়েছেন, যা ফেডারেল রাজস্ব বৃদ্ধি করবে এবং আমেরিকায় উৎপাদন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করবে বলে তিনি মনে করেন। এই রিপাবলিকান নেতা চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বাণিজ্য অংশীদারদের পণ্যের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছেন।
চীনের ওপর ৫৪% এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০% শুল্কের হুমকির মুখে থাকা এই দুই পক্ষ বৃহস্পতিবার পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

শুল্ক হচ্ছে বিদেশ থেকে আমদানি পণ্যের ওপর আরোপিত কর, এবং ট্রাম্পের এই নীতি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শুল্ক হারে পৌঁছতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এ নিয়ে “গুরুতর উদ্বেগ” প্রকাশ করে বলেছে, এতে চলতি বছর বৈশ্বিক বাণিজ্য ১% কমে যেতে পারে।
ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, এই শুল্ক মূল্যস্ফীতির আগুন জ্বালাতে পারে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে থামিয়ে দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর মূল্যমান প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার কমে গেছে, যা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বাণিজ্য যুদ্ধের ভয়ে চলমান বিক্রির ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ডাউ জোন্স ৪% এবং নাসডাক ৬% নিচে নেমে দিনের লেনদেন শেষ করেছে।
এর আগে, যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ১.৫% হ্রাস পেয়েছে, এবং জাপান থেকে হংকং হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন বাজারেও পতনের ছায়া পড়েছে।