24 C
Dhaka
শনিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৫

কিশোরগঞ্জে বন্ধ থাকা নীলগঞ্জ স্টেশন চালু করার দাবি এলাকাবাসীর

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100
এম.এ.কিবরিয়া, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন। প্রান্তিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াও যাতায়াতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

এতে রেলওয়ে যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি চুরি হয়ে যাচ্ছে বন্ধ স্টেশনের দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। অন্যদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে স্টেশন এলাকা।

সরেজমিনে বন্ধ থাকা নীলগঞ্জ স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোনো ধরনের কার্যক্রম না থাকায় রেলের অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি বন্ধ থাকায় সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়া, স্টেশনমাস্টার সংকটসহ নানা কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় স্টেশনটি তদারকি করাও সম্ভব হচ্ছে না। তবে লোকবল নিয়োগ দেওয়ার পর বন্ধ স্টেশনগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার আগে থেকেই নীলগঞ্জ রেল স্টেশনটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক স্টেশন হিসেবে পরিচিত ছিল। আশপাশের বিশাল এলাকার লোকজন যাতায়াত ও কৃষি পণ্যসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে স্টেশনটির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হঠাৎ করেই ২০১১ সালের ৪ জুলাই লোকবল প্রত্যাহার করে স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ওই এলাকার লাখো মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। তারা অবিলম্বে স্টেশনটি চালুর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় জালাল উদ্দীন বলেন, প্রাচীনকাল থেকে ব্যবসার জন্য নীলগঞ্জ একটি প্রসিদ্ধ এলাকা। কিন্তু এখানে ট্রেন না থামায় বাজারের ব্যবসায় ধস নেমেছে। যাত্রীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। ঐতিহ্যবাহী নীলগঞ্জ স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণ দুর্ভোগে পড়েছে। তাই দ্রুত স্টেশনটি চালুর দাবি জানান তিনি।

মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (ব্যবসায়ী) নুরুল হক শাহীন বলেন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সুবিধায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে নীলগঞ্জের প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থনীতি। স্টেশনটিতে ট্রেন না থামায় সাধারণ জনগণকে সড়কপথে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষি, শিক্ষা ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিঙ্গেল লাইনে একটি ট্রেন, বন্ধ নীলগঞ্জ স্টেশন পার হয়ে পরের স্টেশন কিশোরগঞ্জ স্টেশন অতিক্রম না করা পর্যন্ত বিপরীত দিকে থেকে কোনো ট্রেন আসার সুযোগ নেই। ফলে প্রতিটি ট্রেনকেই শত শত যাত্রীসহ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তবে বন্ধ স্টেশনকে সচল করা গেলে ক্রসিংয়ের সময় অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে যাত্রীদের ভোগান্তিও লাঘব হবে।

স্টেশনটি দীর্ঘ সময় বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো.খলিলুর রহমান জানান, লোকবল সংকটের জন্য এই স্টেশনগুলো বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোতে জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জনবল বাড়ানো হলে বন্ধ রেলস্টেশন চালু করে যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করা যাবে বলেও জানান তিনি।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

তিস্তা সেচ প্রকল্পের অকার্যকরতা ও উত্তরাঞ্চলের কৃষি সংকটের গভীর ছায়া

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি ১৯৭৯ সালে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা সেচ প্রকল্প শুরু হয়, যার লক্ষ্য ছিল উত্তরাঞ্চলের...