Your Ads Here 100x100 |
---|
ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক, খবরের দেশ
আজ ৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন ১০% “বেসলাইন” শুল্ক আদায় শুরু করেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পারস্পরিক সম্মত শুল্ক হার ভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার এক বড় ধাক্কা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত এই নীতির অধীনে, আরও উচ্চ হারে “পারস্পরিক” শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৫৭টি বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর—যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে ২০% এবং চীনা পণ্যে ৩৪% শুল্ক রয়েছে, যা আগামী সপ্তাহ থেকে কার্যকর হবে।
এই ঘোষণার ফলে শেয়ারবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই দিনে এস এন্ড পি (স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুয়ার্স) ৫০০ সূচকে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পতন হয়েছে এবং পণ্যমূল্যও হ্রাস পেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর ওপর এই ১০% শুল্ক তৎক্ষণাৎ আরোপ হয়েছে। তবে কানাডা ও মেক্সিকো নির্দিষ্ট চুক্তির আওতায় আপাতত ছাড় পেয়েছে।
পাওয়ার, ওষুধ এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো ১,০০০টিরও বেশি পণ্যে এই শুল্ক প্রযোজ্য নয়।
এর জবাবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত পণ্যে ৩৪% শুল্ক আরোপ করেছে, যা বিশেষ করে মার্কিন কৃষিপণ্য যেমন সয়াবিন ও সরঘমের (Sorghum, এক ধরনের দানাশস্য) ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ব্রাজিল, যার সয়াবিন রপ্তানি রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
এই বাণিজ্য উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী মন্দার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার সূচকগুলো বড় পতনে পড়েছে—নাসডাক সূচক (ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ সিকিউরিটিজ ডিলার্স অটোমেটেড কোটেশনস) “বিয়ার মার্কেটে” (ক্রমাগতহ্রাস)- প্রবেশ করেছে এবং ডাও জোন্স (ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ) “কারেকশন” পর্যায়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা এখন বছরের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক মন্দার সম্ভাবনা ৬০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন।
বিনিয়োগকারীরা আরও অস্থিরতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, বিশেষ করে মার্কিন কোম্পানিগুলোর আসন্ন আয়ের প্রতিবেদন এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকগুলোর অপেক্ষায় আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সতর্কতা প্রকাশ করেছে, বলছে যে এই শুল্কের ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে।