Your Ads Here 100x100 |
---|
মো: মাসুদ রানা মিশু, নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। কলেজ পড়ুয়া এক তরুণ ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকাবাসী বলছেন, মাদকাসক্তি ও মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে পরিবারিক বিরোধের জেরে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
নিহতের নাম রায়হান মোল্লা (২৩)। তিনি উপজেলার ১২ নম্বর কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের চকউলী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেদ মোল্লার ছেলে এবং স্থানীয় একটি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয়রা গ্রামের পাশে একটি আম গাছে রায়হানকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেন। পরে মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

রায়হান দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে তুমুল কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রায়হান অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন সে হয়ত বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও গেছে, কিন্তু পরদিন সকালে এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখতে হয় তাদের।
নিহতের বাবা আব্দুল খালেদ মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমার ছেলে ভালো ছিল। কিন্তু কিছু খারাপ মানুষের সঙ্গ পেয়ে মাদক নিতে শুরু করে। অনেকবার চিকিৎসাও করিয়েছি। শেষরক্ষা হলো না। আমি ওর সঙ্গে রাতেও কথা বলেছি, বুঝাতে চেষ্টা করেছি। জানতাম না এমন করে চলে যাবে।”
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, “আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাই। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রায়হানের এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, রায়হান ছিল মিশুক স্বভাবের, তবে কিছুদিন ধরেই তার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।
মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং তরুণদের মধ্যে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে এই ঘটনা। স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, এমন ঘটনা রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।