Your Ads Here 100x100 |
---|
নিউজ ডেস্ক :
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনকে ইসলামবিরোধী ও কোরআন-কটাক্ষকারী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন ইসলামের শাশ্বত বিধানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং কোরআনের নির্দেশনার বিরুদ্ধে।
মাওলানা মামুনুল হক দাবি করেন, বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা, যা হাজার বছরের পুরনো, তা ভেঙে পাশ্চাত্যের পরিবারবিহীন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বুধবার, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন আমরা সমগ্রভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং এটাকে আমরা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। প্রতিবেদনটি চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং এজন্য সব ইসলামী সংগঠন একমত হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। শুধু প্রস্তাব নয়, কমিশনটির বিরুদ্ধে বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”
মামুনুল হক উল্লেখ করেন, প্রতিবেদনটির উদ্দেশ্য হলো এলজিবিটিকিউ বা সমকামিতার বৈধতা প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশের নারীসমাজকে বেহায়াপনার দিকে ঠেলে দেওয়া, যৌনকর্মের প্রচার এবং পতিতাবৃত্তিকে বৈধতা দেওয়া। এছাড়া, প্রতিবেদনটি বিবাহ, ভরণপোষণ এবং সন্তান লালন-পালনে একটি নতুন আইন প্রস্তাব করেছে, যা ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, “বিবাহ একটি ধর্মীয় বিষয়, রাষ্ট্র বা সমাজের বিষয় নয়। ইসলামী বিধান অনুসারে বিবাহ এবং তার বিচ্ছেদ পদ্ধতি নির্ধারিত। রাষ্ট্র এটি পর্যবেক্ষণ করতে পারে, তবে এটি কোনো মানুষের সিদ্ধান্ত হতে পারে না।”
মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, “বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে আমরা বলছি, এই প্রস্তাবটি কার্যকর হলে দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। দেশের মুসলমানরা ইসলামবিরোধী কোনো পরিবর্তন মেনে নেবে না।”
তিনি শেষ করেন, “এই প্রস্তাবে সরাসরি বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিধানই নারী-পুরুষের বৈষম্যের মূল কারণ, কিন্তু কোরআনে সমাজে ইনসাফ ও সাম্য প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। কমিশনের সদস্যরা পশ্চিমা চিন্তা-ভাবনায় প্রভাবিত, তারা বাংলাদেশের নারীসমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করেন না।”
মাওলানা মামুনুল হক ঘোষণা দিয়েছেন, শনিবারের মহাসমাবেশে এই প্রতিবেদন এবং তার বিরুদ্ধে ইসলামী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা আসবে।