27.1 C
Dhaka
রবিবার, মে ৩, ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভুট্টাচাষিরা

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমের ভুট্টা তুলে শুকাতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। এবছর ভুট্টার আবাদ ভালো হলেও শেষ সময়ে পর্যাপ্ত পরিচর্যা করতে না পারায় এ ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়ন, নয়ারহাট ইউনিয়ন ও অষ্টমীচর ইউনিয়নের বেশিরভাগ অঞ্চলে এবার ভুট্টার আবাদ হয়েছে। তবে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর গুমোট আবহাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির বদলে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ পড়েছে। ক্ষেত থেকে ভুট্টা মাড়াই করে ঘরে তুললেও তা শুকাতে না পারায় পচন ধরার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের জানানো হচ্ছে, কালবৈশাখী ঝড়ে যেসব গাছ মাটিতে পড়ে গেছে সেসব গাছের ভুট্টা সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যেসব গাছ এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে সেসব গাছের ভুট্টা আবহাওয়া ভালো হলে সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে পরিপক্ক গাছের মাথা কর্তন করে ভুট্টার মোচার ঠিক নিচে গাছ মঁচকিয়ে মোচার উন্মুক্ত অংশ নিচের দিকে করে দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে যাতে ভুট্টার উন্মুক্ত স্থান দিয়ে পানি ঢুকে মোচার দানাকে নষ্ট করতে না পারে। এছাড়াও এই পদ্ধতিতে ভেজা মোচার ভিতরে আটকানো পানি দুটো দ্রুত পড়ে যায় এবং মোচা দ্রুত শুকিয়ে যায়। যারা ইতোমধ্যেই ভূট্টা সংগ্রহ করেছে তাদের ভূট্টা শুকিয়ে আদ্রতা ১৪ শতাংশের নিচে আসলে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রোদের অভাবে জমির মধ্যে ভুট্টার বড় বড় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সঠিক উপায়ে শুকাতে না পারায় অনেক ক্ষেত্রে দানায় ছত্রাক পড়ছে এবং ভেজা ভুট্টায় অঙ্কুরোদগম হতে শুরু করেছে। হঠাৎ আসা বৃষ্টিতে খোলা জায়গায় রাখা ভুট্টা ভিজে নষ্ট হচ্ছে।
বিভিন্ন চর এলাকার কৃষকরা জানান, এ বছর চরাঞ্চলের বালু মিশ্রিত জমিতে ভুট্টার ফলন বিগত সময়ের তুলনায় ভালো হয়েছে। তবে রোদের অভাবে সেই ফলন এখন কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষকরা জানান, মাঠ থেকে ভুট্টা ভেঙে এনে স্তূপ করে রেখেছি। রোদ না থাকায় তা ছড়াতে পারছি না। এভাবে আর কয়েকদিন থাকলে ভুট্টা কালো হয়ে যাবে এবং বাজারে দাম পাওয়া যাবে না।
অষ্টমীর ইউনিয়নের নটারকান্দি এলাকার মোঃ ছকের আলী, মোঃ ছোরমান আলী, মোঃ মজিবর রহমান ফকির সহ অত্র এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষকের, জনপ্রতি এক দেড়-দুই, পাঁচ বিঘার অধিক পাকা ফসল ভুট্টা ঘরে তুলতে গিয়ে টানা ১০ দিন বৃষ্টি ও রোদ না থাকায়, আবার কারো কারো মারাই করা ভোটটা গজিয়ে গেছে, ভুট্টা চুকা ও পচা গন্ধ বের হয়েছে, আবার কারো কারো ভোট্ট কলা থাকা অবস্থায় গজিয়ে গাছ বের হয়েছে বলে তারা জানান।
চিলমারী উপজেলা কৃষি অফিসার কনক চন্দ্র রায় জানান, চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। আর বিভিন্ন ভাবে চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যাতে তারা ক্ষতির মুখে না পড়েন। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রনোদনার আওতায় আনা হবে।
- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

কুড়িগ্রামে টানা ঝড়-বৃষ্টিতে দিশেহারা কৃষক

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে কুড়িগ্রামে যেন এক নীরব কৃষি বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। মাঠের পর মাঠ...