ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে ইউক্রেন যুদ্ধ। সম্মেলনে অংশ নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বিশ্ব নেতাদের প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা এবং রাশিয়ার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টির উপায় নিয়ে আলোচনা করছেন অংশগ্রহণকারী নেতারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত নিরসনে নতুন কোনো অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় ইতিবাচক কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় নেতারা চান, রাশিয়াকে এমন একটি শান্তি চুক্তিতে রাজি করানো হোক যা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা করবে। তারা মনে করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে ইউক্রেনকে কোনো ধরনের একতরফা ছাড় দিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
এদিকে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় -এ অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের প্রতি আরও শক্তিশালী সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।
ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তা প্যাকেজ এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার মতে, ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মেলনে শুধু ইউক্রেন ইস্যুই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে Iran ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করছেন নেতারা। এ আলোচনায় এর প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন।
ফ্রান্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে জি-৭ সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশ সহ আরও কয়েকটি দেশের নেতারা যোগ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য এবারের জি-৭ সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।