31.9 C
Dhaka
শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

ইউক্রেনের ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা মেলানিয়া ট্রাম্পের

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন প্রদেশের ওলেশকি শহরে স্থানীয় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া শহরটিতে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এ যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনও এ উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের ফার্স্টলেডির কার্যালয় থেকে মেলানিয়া ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আপাতত এ যুদ্ধবিরতি শুধু শহরটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিবৃতিতে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, ওলেশকির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। যুদ্ধের সম্মুখসারিতে থাকা শহরটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। সেখানে আটকে পড়া বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, তাঁর হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো না।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই শহরটিতে মানবিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য একটি মানবিক করিডোর তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে আটকে পড়া বাসিন্দারা নিরাপদে শহর ছেড়ে যেতে পারবেন। একই সঙ্গে শহরটিতে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হবে।

ইউক্রেনের প্রধান আলোচক ও শীর্ষ মুখপাত্র ডেভিড আরাখামিয়া শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মেলানিয়া ট্রাম্প ও পোপ লিওর অংশগ্রহণে দীর্ঘ আলোচনাপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ চুক্তি অর্জিত হয়েছে। এর আওতায় মানবিক করিডোর তৈরি করা হবে, যাতে বেসামরিক নাগরিকেরা শহর থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন এবং সেখানে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো যায়।

এদিকে, শুক্রবার ক্রেমলিনও নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওলেশকি শহরে স্থানীয় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী চুক্তিটি বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণে কাজ করছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ওলেশকি থেকে যেসব বেসামরিক নাগরিক চলে যেতে চান, তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে। তবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

চুক্তি সম্পাদনে মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন পেসকভ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, মানবিক কার্যক্রম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর প্রচেষ্টাকে রাশিয়া স্বাগত জানায়।

পেসকভ আরও জানান, সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে কথা বলার সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওলেশকি শহর থেকে যেসব বাসিন্দা অন্যত্র চলে যেতে চান, তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হবে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের কিছু বাসিন্দা রাশিয়ায় যেতে চাইতে পারেন, আবার কেউ ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ফিরে যেতে চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মেলানিয়া বলেন, বাসিন্দাদের সিদ্ধান্ত যেন যথাযথভাবে সম্মান করা হয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি নিজে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। পুরো প্রক্রিয়ায় একটি নিরপেক্ষ মার্কিন গণমাধ্যম সংস্থাও যুক্ত থাকবে এবং ঘটনাগুলো নথিবদ্ধ করবে। তবে ওই গণমাধ্যম সংস্থার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘ওলেশকি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। এ পরিকল্পনার আওতায় দুই দেশের বেসামরিক প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করবেন এবং শহরটির মানুষের মানবিক প্রয়োজনগুলো মূল্যায়ন করবেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও কাজ করেছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। তাঁর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৩৪ শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে তিনি সহায়তা করেছেন।

এর আগে প্রায় এক বছর আগে মেলানিয়া জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিনি একটি গোপন যোগাযোগমাধ্যম বা ‘ব্যাক চ্যানেল’ তৈরি করেছিলেন। স্লোভেনিয়ায় জন্ম নেওয়া সাবেক এই ফ্যাশন মডেল যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিষয়েও কাজ করছেন বলে তাঁর কার্যালয় জানিয়েছে।

ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করছেন। এ প্রক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং আলোচনার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন প্রদেশে দিনিপ্রো নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ২০২২ সালে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। যুদ্ধ শুরুর আগে শহরটিতে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু যুদ্ধ, নিরাপত্তাহীনতা ও প্রয়োজনীয় সরবরাহের সংকটের কারণে বর্তমানে সেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শহরটির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে আটকা পড়ে আছেন। চলমান লড়াইয়ের কারণে সেখানে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও সহজে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

চলতি মাসের শুরুর দিকে শহরটির কয়েকজন সাবেক বাসিন্দা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছিলেন, দুই দেশের বাহিনীর লড়াইয়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে তাঁদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে আটকে পড়া বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ঘোষিত তারিখে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে কি না, মানবিক করিডোর কতটা নিরাপদ থাকবে এবং বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত যথাযথভাবে পালনের ওপর।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

সরকারকে বিব্রত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছেন গোলাম পরওয়ার: রিজভী

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ...