| Your Ads Here 100x100 |
|---|
ইয়েমেনে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৪টি হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির সরকারি সেনাবাহিনী। এসব হামলায় প্রায় ২০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। একই সময়ে হুথি গোষ্ঠীর ৯০টি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলি এসব তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কর্নেল আল-নুজাইলি জানান, অভিযানে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন), স্থল কামান, রকেট নিক্ষেপকারী ব্যবস্থা এবং স্নাইপার ইউনিট অংশ নেয়। হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোই এসব অভিযানের মূল লক্ষ্য।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দাবি, হামলায় হুথিদের বিভিন্ন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, সুরক্ষিত সামরিক অবস্থান, গোলাবর্ষণের স্থান, সেনা সমাবেশস্থল, অতিরিক্ত সেনা ও সরঞ্জাম পাঠানোর ইউনিট এবং সরবরাহের পথগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে। এতে হুথি যোদ্ধারা কয়েকটি অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী।
আল-নুজাইলির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন যুদ্ধফ্রন্টে সরকারি বাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে হুথি বিদ্রোহীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অতিরিক্ত যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।
সেনাবাহিনীর দাবি, এই পরিস্থিতিতে হুথিরা নতুন কোনো এলাকা দখল করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়ছে। বিভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে চাপ বজায় রাখার মাধ্যমে তাদের সামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে সরকারি বাহিনী।
কর্নেল আল-নুজাইলি বলেন, সরকারি বাহিনী নির্ধারিত সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চালাচ্ছে। এসব হামলা কেবল বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে ১ হাজার ১৬৪টি হামলার দাবি
‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর আওতায় কয়েক দিন ধরে তীব্র লড়াই চলার পর সর্বশেষ হামলার তথ্য প্রকাশ করল ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী।
এর আগে গত সোমবার কর্নেল আল-নুজাইলি জানিয়েছিলেন, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনী হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ১ হাজার ১৬৪টি হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানে মাঠপর্যায়ের কমান্ডারসহ ৫৫৮ জন হুথি যোদ্ধা নিহত বা যুদ্ধ করার সক্ষমতা হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এ সময় ১৩৫টি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও জানান তিনি।
সোমবারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী অগ্রসর হয়েছে। পাশাপাশি শাবওয়া ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন যুদ্ধফ্রন্টে হুথিদের অবস্থানের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালীর কাছাকাছি এলাকাতেও সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র।
বাব আল-মানদেব প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের আশপাশে সংঘাত বাড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনীর দেওয়া হতাহত ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে অভিযানে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে
আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

