32.4 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ভোটাধিকারবিহীন নতুন শেয়ার ছাড়ছে মেটা

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন ধরনের শেয়ার চালুর পরিকল্পনা করেছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। নতুন এই শেয়ারের মালিকেরা কোম্পানির বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ভোট দিতে পারবেন না। তবে এসব শেয়ার বাজারে ছাড়ার মাধ্যমে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের ভোটাধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

 

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছে। নতুন শেয়ার চালুর উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি কোম্পানির বর্তমান নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ধরে রাখতে চায় মেটা।

 

বুধবার (২১ অক্টোবর) তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় নতুন শেয়ার চালুর পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এআই খাতে বাড়তি ব্যয়ের অর্থ জোগাতে ভোটাধিকারবিহীন শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা করছে মেটা।

 

মেটার প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সুসান লি জানান, প্রতিষ্ঠানটি নতুন একটি শ্রেণির ভোটাধিকারবিহীন মূলধনি শেয়ার তৈরি করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

 

পরবর্তী সময়ে নতুন এই শেয়ারগুলো শেয়ারবাজারে কেনাবেচার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ার লেনদেন করতে পারবেন এবং মেটাও নতুনভাবে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাবে।

 

সুসান লির ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন শেয়ার থেকে পাওয়া অর্থ কর্মীদের পারিশ্রমিক দেওয়া, অন্য প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ এবং কোম্পানির নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এআইসহ ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্যও এই উদ্যোগ সহায়ক হবে।

 

বিদ্যমান শেয়ারধারীদের ভোটাধিকার থাকবে অক্ষুণ্ন

 

নতুন শেয়ার চালুর ক্ষেত্রে মেটার অন্যতম লক্ষ্য হলো কোম্পানির বর্তমান পরিচালনাকাঠামো বজায় রাখা। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ও বর্তমান নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারধারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

 

সাধারণত কোনো কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করলে নতুন বিনিয়োগকারীদের হাতে মালিকানা ও ভোটাধিকার চলে যেতে পারে। এতে কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণে আগের শেয়ারধারীদের প্রভাব পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে ভোটাধিকারবিহীন শেয়ারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা আর্থিক সুবিধা পেলেও কোম্পানির নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে ভোট দিতে পারবেন না।

 

মেটার পরিকল্পিত শেয়ারব্যবস্থায় নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলেও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এড়ানো সম্ভব হবে। ফলে একদিকে যেমন অর্থ সংগ্রহ করা যাবে, অন্যদিকে তেমনি বিদ্যমান নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বজায় থাকবে।

 

এআই খাতে বাড়ছে মেটার ব্যয়

 

বর্তমানে এআই প্রযুক্তির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি নতুন এআই মডেল তৈরি, ব্যক্তিগত এআই সহকারী উন্নয়ন এবং সফটওয়্যার নির্মাতাদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।

 

এআই খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনও বাড়ছে। এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও প্রযুক্তি গবেষণার জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে।

 

মেটার সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনেও আয় ও ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৬৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় আয় বেড়েছে ২৬ শতাংশ।

 

তবে আয়ের পাশাপাশি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মেটার ব্যয় বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ আয় বৃদ্ধির তুলনায় ব্যয় বেড়েছে অনেক দ্রুত।

 

এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে নতুন অর্থের উৎস তৈরির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ভোটাধিকারবিহীন শেয়ার চালুর পরিকল্পনাকে সেই প্রয়োজন পূরণের একটি সম্ভাব্য উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি বিভাগেও লোকসান

 

এআইয়ের পাশাপাশি মেটা ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগ করছে। এসব প্রযুক্তির চশমা, সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার এবং অন্যান্য পণ্য নিয়ে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটির রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগ।

 

তবে বিভাগটি এখনো লোকসানের মুখে রয়েছে। নতুন প্রযুক্তির গবেষণা, পণ্য তৈরি এবং বাজার সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এ বিভাগকে।

 

মেটা আশা করছে, ২০২৬ সালে রিয়েলিটি ল্যাবসের লোকসান আগের বছরের তুলনায় কমে আসবে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর এ বিভাগের লোকসান ১৮ থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।

 

এই বিভাগে লোকসান কমানোর পাশাপাশি এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে মেটাকে ব্যয় ও মূলধন ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রাখতে হবে।

 

নতুন এআই মডেল ও ব্যক্তিগত সহকারী নিয়ে কাজ

 

এআই খাতে মেটার সাম্প্রতিক উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে মিউজ স্পার্ক, মিউজ গ্লিমার, মিউজ ওয়ান্ডার এবং মিউজ স্পার্ক ওপেন মডেল। পাশাপাশি সফটওয়্যার নির্মাতাদের জন্য মিউজ কোড নামের একটি কোডিং এজেন্ট চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

এআই মডেল ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা এবং সফটওয়্যার তৈরিতে সহায়তা করার মতো কাজে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে কোডিং এজেন্ট সফটওয়্যার নির্মাতাদের প্রোগ্রাম লেখা ও সংশ্লিষ্ট কাজ সহজ করতে সহায়তা করে।

 

মিউজ স্পার্ক ওপেন মডেলের মূল প্যারামিটার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে বাইরের সফটওয়্যার নির্মাতারা মডেলটি ব্যবহার করতে পারবেন এবং নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এর উন্নয়ন করতে পারবেন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মাত্র দেড় মাসে ১ কোটির বেশি মানুষ মিউজের ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট চালু করেছেন। তাঁর দাবি, মিউজের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে এবং এটি প্রায় প্রতিদিনই অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে শীর্ষ অবস্থানে থাকছে।

 

ব্যক্তিগত এআই সহকারীর ব্যবহার বাড়লে মেটার ডিজিটাল সেবাগুলোর সঙ্গে ব্যবহারকারীদের যোগাযোগ আরও বাড়তে পারে। তবে এসব প্রযুক্তির উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।

 

আইনি ও নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জও রয়েছে

 

এআই ব্যবসার সম্প্রসারণের পাশাপাশি মেটাকে বিভিন্ন আইনি ও নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে এ-সংক্রান্ত একাধিক মামলার বিচার আগামী কয়েক মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব মামলার কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য আইনি সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে, তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে।

 

একদিকে এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রসর হওয়া, অন্যদিকে আইনি বাধ্যবাধকতা ও পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া—দুই দিকেই মনোযোগ দিতে হচ্ছে মেটাকে। ফলে নতুন বিনিয়োগের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

সব মিলিয়ে, ভোটাধিকারবিহীন নতুন শেয়ার চালুর পরিকল্পনার মাধ্যমে এআই খাতে বিনিয়োগের জন্য অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে চায় মেটা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারধারীদের ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে নতুন বিনিয়োগের অর্থ ব্যবহার করে এআই মডেল, ব্যক্তিগত সহকারী ও সফটওয়্যার প্রযুক্তির উন্নয়ন আরও এগিয়ে নিতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাড়তি ব্যয়, রিয়েলিটি ল্যাবসের লোকসান এবং আইনি চ্যালেঞ্জ সামলে এই বিনিয়োগ থেকে কতটা সুফল পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে মেটার ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক ফলাফল ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ওপর।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

গাজীপুরে ঝুটের গুদামে আগুন, পুড়ল মসজিদসহ একাধিক স্থাপনা

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঝুটের গুদামে ভয়াবহ আগুনে একটি মসজিদ, তুলার গুদাম ও বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)...