31.3 C
Dhaka
সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

১০০ বার কেন, বিজয়কে হাজারবারও বিয়ে করব’: রাশমিকা

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

ভারতীয় অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বিজয় বলেছিলেন, বিয়েতে রাজি হওয়ার আগে রাশমিকাকে নাকি প্রায় ১০০ বার একই কথা বলতে হয়েছিল। তার এই মন্তব্যের পরই নেটিজেনদের একাংশ বিজয়ের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ বিষয়টিকে স্ত্রীর প্রতি অবজ্ঞা হিসেবেও দেখেন। এবার সেই বিতর্কের জবাব দিয়েছেন রাশমিকা নিজেই। স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের সম্পর্ক ও বিয়ের সিদ্ধান্তকে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, বাস্তবতা মোটেও তেমন নয়।

সম্প্রতি করণ জোহরের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে অতিথি হিসেবে হাজির হন বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। সেখানে তাদের প্রেম, সম্পর্ক এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন দুজন। একপর্যায়ে সঞ্চালক তাদের বিয়ের প্রস্তাবের গল্প জানতে চাইলে উঠে আসে সেই ১০০ বার বলার প্রসঙ্গ।

অনুষ্ঠানে রাশমিকা জানান, একসময় তিনি বিজয়কে বিয়ের কথা বলেছিলেন। জবাবে বিজয় মজা করে বলেছিলেন, একই কথা নাকি তাকে প্রায় ১০০ বার বলতে হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুজনই নিজেদের সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু বিজয়ের ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন। কেউ কেউ মনে করেন, রাশমিকাকে বিয়েতে রাজি করাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। আবার অনেকে প্রশ্ন তোলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিজয়ের অবস্থান আসলে কী ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন রাশমিকা। তিনি জানান, তাদের কথোপকথনের মূল বিষয়টি না বুঝেই অনেকে শুধু ১০০ বার বলা কিংবা এক বছর সময় নেওয়ার হিসাব নিয়ে আলোচনা করছেন।

রাশমিকা লেখেন, ‘প্রথমেই বলে রাখি, বিষয়টি কখনোই কতবার বলা হয়েছিল কিংবা পুরো এক বছর সময় নেওয়া নিয়ে ছিল না। আপনারা সেখানেই আটকে গেছেন। হ্যাঁ, এমন কথোপকথন হয়েছিল। কিন্তু আমাদের কেউই জাঁকজমকপূর্ণ কোনো প্রস্তাবের অপেক্ষায় ছিলাম না।’

অভিনেত্রীর মতে, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুজনের একে অপরকে বোঝার যথেষ্ট সময় পাওয়া জরুরি ছিল। শুধু ভালোবাসা থাকলেই যে বিয়ের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, তা নয়। জীবনের নানা পরিস্থিতি সামলে একসঙ্গে চলার বিষয়ে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া থাকা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে রাশমিকা বলেন, জীবনের উত্থান-পতন, আনন্দ ও চাপের মধ্যেও তারা একে অপরকে বোঝার সময় ও সুযোগ নিয়েছেন। তারা সত্যিই বিয়ে করতে চান কি না এবং বিয়ে করার জন্য সেটিই উপযুক্ত সময় কি না, তা নিশ্চিত হওয়াই ছিল তাদের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।

শেষ পর্যন্ত দুজনের সম্মতিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান রাশমিকা। তার ভাষ্য, তারা দুজনই একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাদের স্বভাবের পার্থক্যও সম্পর্ককে সুন্দর করে তুলেছে।

রাশমিকা লেখেন, ‘আমরা একে অপরকেই বেছে নিয়েছি। আমি পুরোপুরি আবেগ দিয়ে ভাবি, আর বিজয় চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের জীবনে একে অপরের এই গুণগুলো প্রয়োজন।’

বিজয়ের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথাও অকপটে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, বিয়ে মানেই শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেওয়া, এক হাঁটু গেড়ে বসা কিংবা আঙুলে আংটি পরিয়ে দেওয়া নয়। এসব আয়োজনের বাইরেও বিয়ের একটি গভীর অর্থ রয়েছে।

রাশমিকার কাছে বিয়ের অর্থ হলো, দুজন মানুষের একসঙ্গে জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। সুখ-দুঃখের প্রতিটি মুহূর্তে একে অপরের পাশে থাকা এবং জীবনের দীর্ঘ পথ একসঙ্গে পাড়ি দেওয়া।

নিজের ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে মুগ্ধতার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমাদের কাছে বিয়ে কখনোই প্রস্তাব দেওয়া, এক হাঁটু গেড়ে বসা কিংবা আঙুলে আংটি পরানোর বিষয় ছিল না। এগুলো বাহ্যিক আয়োজন। আমাদের কাছে বিয়ের অর্থ ছিল একসঙ্গে জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।’

এরপর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে রাশমিকা বলেন, এমন একজন মানুষকে বেছে নেওয়া উচিত, যার জন্য জীবনের যেকোনো পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব এবং যিনি একইভাবে আপনার পাশে থাকবেন। বিজয়কে নিয়ে তিনি ভীষণ মুগ্ধ বলেও জানান।

রাশমিকার কথায়, ‘এমন কাউকে খুঁজে নিন, যার জন্য আপনি যেকোনো পর্যায়ে যেতে পারবেন এবং যে আপনার জন্যও একই কাজ করবে। আর হ্যাঁ, আমি আমার মানুষটিকে নিয়ে ভীষণ মুগ্ধ। এটা কখন থেকে খারাপ হয়ে গেল?’

বিজয়কে নিজের সারা জীবনের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে রাশমিকা আরও বলেন, যাকে বিয়ে করছেন, তার প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা স্বাভাবিক। কারণ, সেই মানুষটিই ভবিষ্যতে জীবনের প্রতিটি সাধারণ ও অসাধারণ মুহূর্তের সঙ্গী হবেন।

তিনি লেখেন, ‘আমি যাকে বিয়ে করছি, তার প্রেমে যদি গভীরভাবে না-ই পড়ি, তাহলে তাকে বিয়ে করব কেন? তিনি সারা জীবনের সঙ্গী হবেন। সাধারণ ও অসাধারণ প্রতিটি দিনের বন্ধু, আমার সন্তানের বাবা এবং সেই মানুষ, যার সঙ্গে আমি বৃদ্ধ হতে চাই।’

বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে রাশমিকা আরও স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তার মতে, ভালোবাসার মানুষকে বারবার ভালোবাসার কথা বলা কিংবা তাকে আবারও বিয়ে করতে চাওয়ার মধ্যে নেতিবাচক কিছু নেই। বরং সম্পর্কের প্রতি গভীর টান ও ভালোবাসা থেকেই এমন অনুভূতি তৈরি হয়।

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এমন একজন মানুষ খুঁজুন, যিনি আপনাকে এত সুন্দরভাবে ভালোবাসবেন যে বিয়ের পরও তাকে বলতে ইচ্ছা করবে, চলো আবার বিয়ে করি। আমি হাজারবারও একই কাজ করব। সেখানে ১০০ বার কিছুই নয়।’

অর্থাৎ, বিজয়কে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার মধ্যে কোনো দ্বিধা নেই। বরং নিজের জীবনসঙ্গীকে নিয়ে তিনি যে ভীষণ সুখী, সেই কথাই স্পষ্টভাবে বোঝাতে চেয়েছেন অভিনেত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সম্পর্ক নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য ও পরামর্শ আসায় হতাশাও প্রকাশ করেছেন রাশমিকা। তার মতে, ব্যক্তিগত জীবনের একটি কথোপকথনকে কেন্দ্র করে যেভাবে তাদের সমালোচনা করা হয়েছে, তা অপ্রত্যাশিত।

এ বিষয়ে রাশমিকা লেখেন, ‘আমার ও বিজয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অসংখ্য মতামত, মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরামর্শ এসেছে। যেভাবে মানুষ আমাদের আক্রমণ করেছে, তা আমাকে সত্যিই কিছুটা বিস্মিত করেছে।’

তবে এসব সমালোচনা তাদের জীবনের সুখ নষ্ট করতে পারেনি বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট রাশমিকা মনে করেন, তার সুখ ও ভালো থাকার বিষয়টি তার মুখের হাসি, অভিনয় এবং কাজের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পাবে।

অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘আমাদের নিয়ে চিন্তা করবেন না। আমি জীবনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সুখী। আমার মুখে, বিয়ের পরের আনন্দে, আমার অভিনয়ে, সিনেমায় এবং জীবনযাপনে সেই সুখ দেখতে পাবেন বলে আশা করি। আমি সুখী, তৃপ্ত এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।’

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সম্পর্কের পর তারা একসঙ্গে জীবন শুরু করেন। এর আগে ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’ সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তারা। পর্দায় তাদের রসায়ন দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

সম্প্রতি ‘রানাবালি’ সিনেমাতেও একসঙ্গে দেখা গেছে এই জুটিকে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও রাশমিকার বক্তব্যে স্পষ্ট, বিজয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভিত্তি পারস্পরিক বোঝাপড়া, ভালোবাসা ও একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিশ্রুতি। আর সেই মানুষটিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি এতটাই নিশ্চিত যে, প্রয়োজনে ১০০ বার নয়, হাজারবারও একই সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশে র‍্যালি করবে বিএনপি, থাকছে নানা কর্মসূচি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন...