21 C
Dhaka
সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

ঢাকার যে ১৫টি এলাকা সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে

জনপ্রিয়
ঢাকা শহরের ঘনবসতি, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, সংকীর্ণ সড়ক ও খোলা জায়গার স্বল্পতা রাজধানীকে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন—মাঝারি থেকে বড় ভূমিকম্প হলেও আশ্রয় নেওয়া, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি সেবা পৌঁছানো—সবই কঠিন হয়ে পড়বে। সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, রাজধানীর ১৫টি এলাকা ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গবেষণার পটভূমি
আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম সায়েন্স ডাইরেক্ট-এ প্রকাশিত “An Assessment of Physical Aspects for Seismic Response Capacity in Dhaka, Bangladesh” শীর্ষক গবেষণাটি রাজউকের জিআইএস ডেটাবেজ বিশ্লেষণ করে ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌত অবস্থা মূল্যায়ন করেছে।
ঢাকার যে ১৫টি এলাকা সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে
গবেষণায় উল্লেখিত উচ্চ-ঝুঁকির অঞ্চলগুলো হলো—
সবুজবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী, উত্তরা, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, মানিকদী, মোহাম্মদপুর, পল্লবী, খিলগাঁও ও বাড্ডা।
ঝুঁকির মূল কারণগুলো
  • বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মাণ
  • বহু পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবন
  • অস্বাভাবিক জনসংখ্যা ঘনত্ব
  • ভবনগুলোর অতিরিক্ত সন্নিবেশ
  • সংকীর্ণ রাস্তা
  • দাহ্য গুদাম ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা
  • যথেষ্ট খোলা জায়গার অভাব
  • চিকিৎসাসেবার ঘাটতি
  • ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার কাজে সীমাবদ্ধতা
জরিপকৃত ৩২টি এলাকা—কারা বেশি, কারা কম ঝুঁকিতে
গবেষণায় উত্তরা, গুলশান, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, রমনা, শাহবাগ, আজিমপুরসহ কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, পল্লবী, কল্যাণপুর, মিরপুর, গাবতলী—মোট ৩২টি এলাকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি
কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, সবুজবাগ—এসব এলাকায় ভবনগুলো পুরোনো, রাস্তাঘাট সরু এবং বাসিন্দার ঘনত্ব অত্যধিক। সূত্রাপুর ও শ্যামপুরের মতো এলাকায় খোলা জায়গা না থাকায় দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলেও বিপদ ঘনিয়ে আছে
কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, মানিকদী ও গাবতলীতে রাস্তাঘাট ছোট, খোলা স্থান কম এবং ভবনের ঘনত্ব অত্যধিক। পল্লবীর ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে।
যেসব এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ
পরিকল্পিত অবকাঠামো থাকার কারণে গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা, শাহবাগ, আজিমপুর, শেরেবাংলানগর, মতিঝিল—এসব অঞ্চল অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিতে রয়েছে। এর কারণ—
  • প্রশস্ত সড়ক
  • পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানের উপস্থিতি (রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)
  • হাসপাতাল ও জরুরি সেবার সহজলভ্যতা
লালবাগের খোলা প্রাঙ্গণ এবং নিউমার্কেট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাঠগুলোও কিছুটা নিরাপত্তা প্রদান করে।
বিশেষজ্ঞের অভিমত
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান জানিয়েছেন—
ভূমিকম্পঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণে ভূমির গঠন, ভবন নির্মাণে আইন মেনে চলা, স্থাপনার বয়স-টেকসই মান, অবকাঠামোর ঘনত্ব—এসব উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, মাটি শক্ত হলেও যদি ভবন দুর্বল হয়, তবে এলাকা ঝুঁকিপূর্ণই থাকে; আর নিয়ম মেনে নির্মাণ হলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

হারিয়ে যেতে বসেছে কুড়িগ্রামে বাঁশের তৈরি চাটাই ও অন্যান্য বাঁশ পণ্য

  আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি একসময় কুড়িগ্রামের গ্রামীণ জীবনের অপরিহার্য উপকরণ ছিল বাঁশের তৈরি ধারা, চালুনি, কুলা, ডালা, মাছ...