21 C
Dhaka
সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

কুড়িগ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলে দিলো কাঁচা কলা, পাকতে সময় লাগবে কয়েকদিন

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

 

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কর্মসূচির শুরুতেই শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে সরকারি বিধি অনুযায়ী শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা ও উপস্থিতি বাড়তে সপ্তাহে পাঁচ দিন মিড-ডে মিল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে কুড়িগ্রামে মি-ডে মিল চালুর সপ্তাহ না পেরোতেই নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, রুটিন মাফিক নিয়মিত খাবার না দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোনও কোনও ক্লাস্টারে খাবার সরবরাহ না করারও খবর পাওয়া গেছে। এতে করে কর্মসূচির সুফল নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

রৌমারী উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, রৌমারী উপজেলায় ১১৪টি প্রাইমারি স্কুলে ১৮ হাজার ৯৯৮ জন শিক্ষার্থী সপ্তাহে ৫ দিন এই ‘পুষ্টিকর’ খাবার পাবে। এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা রবিবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বনরুটি ( ১২০ গ্রাম) ও সিদ্ধ ডিম (৬০ গ্রাম), সোমবার বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও ইউএইচটি দুধ (২০০ গ্রাম), মঙ্গলবার ফর্টিফাইট বিস্কুট ( ৭৫ গ্রাম) ও স্থানীয় মৌসুমি ফল/কলা (১০০ গ্রাম) পাবে। তবে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় না করেই সরবরাহ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের যাদুরচর নতুন গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যাদুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বাউশমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিড-ডে মিল চালুর পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুটিন অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করেনি। আর যে খাবার দিয়েছে তা ছিল নিম্নমানের। রুটি ও কলার মান খাবার অনুপযোগী। সর্বশেষ মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের জন্য কাঁচা কলা সরবরাহ করা হয়।

চর বারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ লুৎফর হক বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে ৯৪ জন শিক্ষার্থী। ১৮ নভেম্বর ৭০ জনের জন্য ডিম ও রুটি পেয়েছি। ১৯ নভেম্বর শুধু রুটি পেয়েছি, তারপর থেকে আজ পর্যন্ত আর কোনও খাবার আমার বিদ্যালয়ে সরবরাহ হয়নি।’

যাদুরচর নতুন গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোছাঃ মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘খাবার সরবরাহ শুরু হয় ১৮ নভেম্বর। ১৮ নভেম্বর রুটি ও কলা দিয়েছে, কিন্তু পরিমাণে কম ছিল। ১৯ নভেম্বর দিয়েছে শুধু রুটি। এরপরে আর কোনও খাবার সরবরাহ করেনি। আজকে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে শুধুমাত্র কলা। তবে সে কলা একেবারে কাঁচা, যা খাওয়ার উপযুক্ত নয়। আগামী ৭ দিনেও সেই কলা খাবার উপযোগী হবে না। আমি ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে ফোন দিয়েছি। তিনি আমাকে বলেছেন, প্রাক্কলন মূল্যের চেয়ে ৩০ ভাগ নিম্নদর দিয়ে আমরা খাবার সরবরাহের কাজ নেওয়ায় খাবার বিতরণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।’

নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রৌমারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মঈনুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আইসল্যান্ড ট্রেডিং নামক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গত ১৮ নভেম্বর মৌখিকভাবে জানিয়ে খাবার সরবরাহ শুরু করে। আমরা এখনও কোনও কার্যাদেশের কপি পাইনি। মঙ্গলবার কয়েকটি স্কুলে কাঁচা কলা সরবরাহের অভিযোগ ওঠার পর তারা সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোঃ রায়হান জানিয়েছেন, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে আবারও সরবরাহ শুরু হবে। মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। আবারও নিম্নমানের খাবার দেওয়া হলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসল্যান্ড ট্রেডিংয়ের প্রতিনিধি মোঃ রায়হান বলেন, ‘আমরা ময়মনসিংহসহ কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় খাবার সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছি। খুব অল্প সময়ে কার্যাদেশ পাওয়ায় খাবার সরবরাহে কিছুটা অব্যবস্থাপনা হয়েছে। ১ ডিসেম্বর থেকে সবকিছু নিয়মমতো শুরু হবে। আমরা সবার সহযোগিতা চাচ্ছি।’

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, ‘রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় খাবার সরবরাহে অনিয়মের বিষয়টি নজরে এসেছে। ঠিকাদার আমাদেরকে কোনও চুক্তিপত্র সরবরাহ করেননি। আমাদের সঙ্গে কোনও সমন্বয় বা যোগাযোগ করেনি। তারা নিজেদের মতো করে কাজ করতেছে। নিম্নমানের খাবার সরবরাহের বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, সরকার দেশের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করছে। কুড়িগ্রামের উলিপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা বাদে বাকি ৭ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় খাবার পাবে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

হারিয়ে যেতে বসেছে কুড়িগ্রামে বাঁশের তৈরি চাটাই ও অন্যান্য বাঁশ পণ্য

  আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি একসময় কুড়িগ্রামের গ্রামীণ জীবনের অপরিহার্য উপকরণ ছিল বাঁশের তৈরি ধারা, চালুনি, কুলা, ডালা, মাছ...