21 C
Dhaka
সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

বদলে যাচ্ছে কুড়িগ্রামের চরের জীবনযাত্রা; পশু পালন ও শাক-সবজী চাষে বদছে ভাগ্য

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

 

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
বদলে যাচ্ছে কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলের চিরচেনা চিত্র। উন্নত পদ্ধতিতে বাড়ীর উঠোন সহ আশ পাশের জমিতে শাক-সবজীসহ বস্তায় আদা চাষ ও ভেড়া পালন করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

একসময় কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা নদী তীরবর্তী বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চলে ছিল ধু-ধু বালুচর । বন্যা ও খড়ায় লোকসানি ছিল যেন চরের কৃষকদের নিয়তি। এখন সেখানে সবুজের সমারোহ। চরের কৃষকরা এখন উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যাবহারে আগ্রহভ হয়ে উঠছেন।

একসময় এখানকার কৃষকরা প্রাচীন পদ্ধতিতে মাঠে লাউ, করলা, বেগুন, বরবটি লালশাক, মুলাশাক আবাদ করতো। এখন তারা প্রশিক্ষণ পেয়ে বেড, মাচা ও বস্তা পদ্ধতিতে আদাসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ ও ভেড়া পালন করছে।

ক্ষেতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যাবহার করছেন কেঁচো কম্পোষ্ট সার। এতে ফলনও যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে লাভও তেমন হচ্ছে । তাদের একাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কৃষি বিভাগসহ বেসরকারী সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ।

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী রৌমারী ও সদর উপজেলার ২৮টি চরের ৮৪০টি কৃষক পরিবারকে বছরে দুইবার সবজীবীজ ও কেঁচো কম্পোষ্ট তৈরির জন্য কেঁচোসহ বিভিন্ন সামগ্রী, বস্তায় আদা চাষের জন্য বস্তা ও ভেড়া পালনের জন্য একটি করে ভেড়া প্রদান সহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় চরযাত্রাপুর গ্রামের নারী কৃষক মোছাঃ আকলিমা বেগম তার বাড়ীর পাশে ৫টি ভেড়াকে ঘাস খাওয়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমাকে একটি ভেড়া দেওয়া হয়েছিল। তা থেকে এখন ৫টি ভেড়া হয়েছে। চর এলাকা ভেড়া পালনের জন্য উপযুক্ত । প্রতিটি ভেড়া বছরে ২বার বাচ্চা দেয়। কখনও ২টি কখনও ৩টি। ভেড়াকে বাড়তি খাবার দিতে হয় না।

একই গ্রামের নাজমা বেগম বলেন, আগে বাড়ির আশেপাশে শাকসবজি আবাদ করলেও আধুনিক পদ্ধতি না জানায় ফলন ভালো হতো না। এখন প্রশিক্ষণ পেয়ে বেড ও মাচা পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আমরা লাভবান হচ্ছি। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কেঁচো কম্পোষ্ট সার ব্যবহার করছি। এতে সারও কিনতে হচ্ছে কম।

ফ্রেন্ডশীপ বাংলাদেশ এর রিজিওনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল ইসলাম মল্লিক জানান, ফ্রেন্ডশীপ লুক্সেমবার্গ এর সহায়তায় চরের দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সু-শাসন এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে কুড়িগ্রামের ২৮টি চরের ৮শ’ ৪০টি পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় সহায়তা দেয়া হচ্ছে। যা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য চরের মধ্যেও ছড়িয়ে দেয়া হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, চরঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে কৃষিবিভাগের পাশা-পাশি বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা যেমন- ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তিতে সবজি চাষে সহায়তা করছে। এতে চরের কৃষকরা প্রযুক্তি সম্প্রসারণে আগ্রহি হয়ে উঠছে, ফলে চরের কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, চরাঞ্চলের জন্য ভেড়া পালন একটি উপযুক্ত পেশা। চরে প্রচুর পরিমাণে ঘাস, লতা-পাতা থাকায় বাড়তি খাবার দিতে হয় না। আর এর রোগ ব্যধিও কম। কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চলগুলোতে ফ্রেন্ডশীপ বাংলাদেশ ভেড়া পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বি করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটি একটি ভালো উদ্যোগ। তাদের সাথে আমরাও প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ ও ভেকসিনেশন সাপোর্ট দিচ্ছি। এতে চরাঞ্চলের নারীদের ভেড়া পালনের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

হারিয়ে যেতে বসেছে কুড়িগ্রামে বাঁশের তৈরি চাটাই ও অন্যান্য বাঁশ পণ্য

  আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি একসময় কুড়িগ্রামের গ্রামীণ জীবনের অপরিহার্য উপকরণ ছিল বাঁশের তৈরি ধারা, চালুনি, কুলা, ডালা, মাছ...