| Your Ads Here 100x100 |
|---|
ঢাকা ওয়াসারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুস সালাম রবিবার পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পেছনে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিতর্কিতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। সূত্রের মতে, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শুভ্র তার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছিলেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব নিয়োগ পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে।
আবদুস সালামের নিয়োগ ও বিতর্ক
-
আবদুস সালামকে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর তিন বছরের জন্য ওয়াসার এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
-
ওই সময় তিনি চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা ছিলেন, অথচ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল আবেদনকারীর ন্যূনতম গ্রেড তৃতীয় হতে হবে।
-
ওয়াসা অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, এমডি পদে নির্দিষ্ট একজনকে বসানোর জন্য নিয়ম ভেঙে ধাপে ধাপে পথ তৈরি করা হয়েছিল।
-
পদে নিয়োগের আগে বিজ্ঞপ্তি কয়েক দফায় পরিবর্তন করা হয়, যাতে আবদুস সালাম আবেদন করতে পারেন।
-
এমডি পদে ৩৭ জন আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ওয়াসা কাউকেই সাক্ষাৎকারে ডাকেনি। ‘কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটি’ সরাসরি তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়, যার মধ্যে আবদুস সালামকে প্রথমে রাখা হয়।
অনুসন্ধান ও অভিযোগ
-
আবদুস সালামের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করেছে।
-
গত ৩ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যায়, কানাডার ‘বেগমপাড়ায়’ তার স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল সম্পত্তি রয়েছে।
-
প্রতিবেদনের পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবিলম্বে তার ওয়াসার কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।
অন্যান্য প্রকৌশলীদের নিয়োগে অনিয়ম
-
-
২০২৪ সালের শুরুতে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ আগুনে ৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটে, আরও ১৩ জন দগ্ধ ও আহত হন।
-
ভবনের নকশা অনুমোদনে খালেকুজ্জামান কাজ করেছিলেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিঁড়ি অপ্রশস্ত এবং জরুরি চলাচল নির্গমনের ব্যবস্থা ছিল না।
-
বিপুল অর্থ বিনিময়ে এই নকশা অনুমোদনে তার সংশ্লিষ্টতা দেশব্যাপী বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
পাঁচজনকে পাশ কাটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে খালেকুজ্জামান
গত বছরের ২৮ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তাসনিম ফারহানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে সরিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয় গণপূর্ত মেট্টো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ার এক দিন পরই চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ
-
খালেকুজ্জামান চৌধুরীর চাকরিজীবনের বড় অংশ অস্ট্রেলিয়ায় কেটেছে। স্ত্রী ও সন্তানও সেখানে বসবাস করেন।
-
ভুয়া স্কলারশিপ দেখিয়ে উচ্চতর শিক্ষাছুটির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরেও তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এক বছরের জন্য তার বেতন স্কেলও স্থগিত করা হয়েছিল।
-
তিনি নিজের স্থানীয় যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা হারিয়েও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। তৎকালীন দুদক কমিশনার মোজ্জাম্মেল হক খানের তদবিরে সাবেক সচিব ও গোপালগঞ্জের নির্বাচনী এলাকা প্রতিনিধি শহীদ উল্লা খন্দকার তাকে পদোন্নতি দেন।
পদোন্নতির ধাপ
-
খালেকুজ্জামান চৌধুরী খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়।
-
গোপালগঞ্জ উন্নয়ন প্রকল্প দেখভাল করার জন্যও তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
-
১৫তম বিসিএসের গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১৪ জন প্রকৌশলী যোগদান করেছিলেন। খালেকুজ্জামান ছিলেন ১৩তম। তবে পদোন্নতি দেওয়ার সময় মাত্র ৭ জন কর্মকর্তা সক্রিয় ছিলেন এবং তার অবস্থান ষষ্ঠতম।
-
গ্রেডেশন তালিকা অনুযায়ী তার আগে ছিলেন মো. আশরাফুল আলম, ড. মো. মঈনুল ইসলাম, মো. শামছুদ্দোহা, মো. আবুল খায়ের ও শামীম আখতার। ইতিমধ্যে অনেকেই অবসরে গেছেন এবং ড. মঈনুলকে কোনো কারণ ছাড়াই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
নকশা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিতর্ক
-
খালেকুজ্জামানকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, ভুয়া শিক্ষাগত তথ্য, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আগুন দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার কারণে অনিয়ম ও বিতর্ক রয়েছে। এর আগে তাকে গণপূর্তের “টাকার খনি” হিসেবে পরিচিত মেট্টো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল।
-
-
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর: তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে মো. আব্দুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্বে) করা হয়। আউয়ালের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, সিন্ডিকেট দুর্নীতি এবং অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে।
-
এলজিইডি: জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে মো. বেলাল হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার সময়কালে প্রায় ৪১২ জনকে অবৈধভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং ১,১২৫ জনকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
নতুন সরকার এসব নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আসতে পারে।

