সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কিছু শর্তের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করা হলেও এতে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। তারপরও সরকার কাউকে বাদ দিচ্ছে না এবং সবাইকে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হবে। যোগদানের সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই খুব শিগগির নিয়োগপ্রাপ্তদের কাজে যোগদান করানো হবে।
যোগদানের শর্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের পিটিআই তে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সেখানে ব্যর্থ হলে তারা শিক্ষকতা চালিয়ে যেতে পারবেন না। এছাড়া চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর সন্তোষজনকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলে তাদের স্থায়ী করা হবে।
এদিকে দেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয় ধারার সঙ্গে সমন্বয় করতে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান মন্ত্রী। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং ইতিবাচক প্রস্তাব পাওয়া গেছে। কওমি শিক্ষার বিভিন্ন স্তরকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা ডিগ্রি পর্যায়ের সমমান নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কওমি শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে কারিগরি ও আধুনিক শিক্ষার উপাদান যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাজনিত ভোগান্তি কমাতে প্রতি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা হল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শিক্ষা খাতে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে শিগগিরই প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের মানোন্নয়নে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন জোরদার করা হবে এবং দীর্ঘদিনের হেডমাস্টার নিয়োগ জট দ্রুত নিরসন করা হবে।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় জিপিএ-কেন্দ্রিক প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসার জন্যও মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান তিনি।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।