দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শুরু হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জাঁকজমকপূর্ণ ক্রীড়া আসর ফিফা বিশ্বকাপ। ফুটবলপ্রেমীদের কোটি কোটি চোখ এখন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার দিকে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে এই বিশ্বকাপ।
এর আগে মেক্সিকো দুইবার এবং যুক্তরাষ্ট্র একবার বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও কানাডার জন্য এটি প্রথম। তিন দেশের ১৬টি ভেন্যুতে ৩৯ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ। আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ফাইনালের মাধ্যমে পর্দা নামবে এই মহাযজ্ঞের।
তিন দেশে একসঙ্গে উদ্বোধনী আয়োজন
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিন আয়োজক দেশে সমান্তরালভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে এসব আয়োজন। যদিও অনুষ্ঠানগুলো আলাদা, তবে সবগুলোর মূল প্রতিপাদ্য থাকবে ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বকে এক সুতোয় গাঁথা।
বিশ্বখ্যাত ইভেন্ট প্রযোজক মার্কো বালির তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতিটি দেশ নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরবে।
মেক্সিকো
মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। দেশটির ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন শাকিরা, জে বালভিন, মানা ও লিলা ডাউনসসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীরা।
কানাডা
টরন্টোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হবে। মঞ্চে থাকবেন আলানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, এলেসিয়া কারা, জেসি রেইজ, নোরা ফাতেহি ও আরও অনেক শিল্পী।
যুক্তরাষ্ট্র
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে থাকবে অত্যাধুনিক ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী ও বর্ণাঢ্য আয়োজন। কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএল কুল জে এবং রেমার মতো তারকারা পারফর্ম করবেন।
বিশ্বকাপের সূচনা
আগামীকাল মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে গ্রুপ পর্বের খেলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠিত হবে প্রি-ম্যাচ কার্যক্রম এবং আনুষ্ঠানিক কিক-অফ।
ফিফা সভাপতি Gianni Infantino বলেছেন, বিশ্বকাপ এমন একটি আয়োজন যা পুরো বিশ্বকে একত্রিত করে। মেক্সিকো সিটি, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো সংগীত, সংস্কৃতি এবং ফুটবলের এক বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হবে।
বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ইতোমধ্যেই। প্রিয় দলের সমর্থনে প্রস্তুত ফুটবলপ্রেমীরা। আগামী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে চলবে ফুটবলের মহোৎসব।