গোল করার পর ফুটবলারদের উদযাপনে সাধারণত সতীর্থরাই সঙ্গী হন। তবে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ম্যাচে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করার পর এক সাংবাদিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উদযাপন করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিরল এই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
মেসির সঙ্গে উদযাপনের সৌভাগ্য যাঁর হয়েছে, তিনি আর্জেন্টিনার ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক হোয়াকিন ব্রুনো। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন তিনি।
ব্রুনো বলেন, সেই ঘটনার পরও তিনি যেন উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। তার ভাষায়, ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্নায়ুচাপ ছিল তুঙ্গে। গোলপোস্টের পেছনে দাঁড়িয়ে তিনি পুরো পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখছিলেন।
তিনি জানান, ম্যাচের ৯৫তম মিনিটে নাটকীয় সেই মুহূর্তের জন্ম হয়। প্রথমে হুলিয়ান আলভারেজের শট প্রতিহত করেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি বলে মেসির প্রথম প্রচেষ্টাও রক্ষণভাগ ঠেকিয়ে দেয়। তবে তৃতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন মাঠে উপস্থিত সমর্থকেরা।
সাংবাদিক ব্রুনো বলেন, গোলের পর তিনি অন্য যেকোনো সমর্থকের মতো চিৎকার করছিলেন। ঠিক তখনই তিনি লক্ষ্য করেন, মেসি তার দিকেই এগিয়ে আসছেন। এরপর আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তার সঙ্গে হাই-ফাইভ করেন। একজন ফুটবলপ্রেমী ও মেসির দীর্ঘদিনের ভক্ত হিসেবে এই মুহূর্তকে তিনি সারাজীবনের সেরা স্মৃতিগুলোর একটি হিসেবে আখ্যা দেন।
এর আগে ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। পেনাল্টি মিস করলেও পরে দুর্দান্ত এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। সেই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় নতুন ইতিহাসও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন মেসি। গোল উদযাপনের সময় সতীর্থদের আলিঙ্গনের আগে সাংবাদিকের সঙ্গে হাত মেলানোর সেই দৃশ্যই এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ফুটবল মাঠে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া মেসি এবার ভক্ত ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য রেখে গেলেন আরেকটি ব্যতিক্রমী স্মৃতি, যা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা।