মিয়ানমারে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে । নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু রয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণহানির প্রধান কারণ ছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৫০৫ জন ফাইটার জেট, ড্রোন, প্যারা-মোটর ও জাইরোকপ্টার ব্যবহার করে পরিচালিত হামলার শিকার হয়েছেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন, এই ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনী দায়ী। তবে এর অর্থ এই নয় যে, অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় কোনো বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়নি।
২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতাচ্যুতি ঘটানোর পর থেকেই মিয়ানমারে সংঘাত ও গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। সে সময় সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে এবং দেশজুড়ে গণতন্ত্রপন্থী শক্তি ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও দেশটিতে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এই নির্বাচনকে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মিয়ানমারের বিষয়টি এ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দেশটির সামরিক বাহিনীর কাছে অস্ত্র ও জেট ফুয়েল সরবরাহ বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। তারা দ্রুত সহিংসতা বন্ধ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।