ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাদের মধ্যেই রয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ও দুই সন্তান। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার কাছে সাহায্য ও প্রার্থনা চেয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আবেগঘন এক পোস্টে ত্রেহো জানান, প্লায়া গ্রান্দেতে তাদের বসবাস করা ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এরপর থেকেই তার স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়ার কোনো সন্ধান মিলছে না।
তিনি লেখেন, ‘আমাদের ভবনটি ধসে গেছে। আমার পরিবারের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। সবাই তাদের জন্য প্রার্থনা করুন। কেউ যদি তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাকে জানান। আমি এখনো আশা করছি, ভূমিকম্পের সময় তারা ভবনের ভেতরে ছিলেন না।’
৩৮ বছর বয়সী লুকাস ত্রেহো বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো লা গুইরার হয়ে খেলছেন। তার পরিবারের সন্ধানে স্থানীয় উদ্ধারকারী দলও কাজ করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অনেককে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যাও অনেক এবং বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধার হওয়া সব মরদেহের পরিচয়ও এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় প্রথমে ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন এলাকার পশ্চিমে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ২২ কিলোমিটার।
এর মাত্র এক মিনিট পর একই অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মোরনের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
দুই দফা শক্তিশালী কম্পনে ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভবন ধস, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।