32.5 C
Dhaka
রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

বাসে বাসে চিঠি বিলি করে প্রচার, সেই সিনেমার আয় ১১৪ কোটি রুপি

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

মুক্তির প্রথম দিনে আয় ছিল ১০ লাখ রুপিরও কম। প্রথম সপ্তাহে মাত্র ৬০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়েছিল সিনেমাটি। বড় বাজেটের সিনেমার মতো প্রচার চালানোর সামর্থ্যও ছিল না নির্মাতাদের। তাই অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা নিজেরাই রাস্তায় নেমে প্রচারপত্র বিলি করেছেন। এমনকি বাসে বাসে গিয়ে যাত্রীদের হাতে চিঠি ও আমন্ত্রণপত্র তুলে দিয়ে সিনেমাটি দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। অথচ সেই সিনেমাই এখন বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে। মুক্তির ২৯ দিনে বিশ্বজুড়ে এর আয় দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি রুপি।

কন্নড় ভাষার এই সিনেমার নাম ‘প্রেমাদা ওরালি’। মাত্র তিন কোটি রুপির কম বাজেটে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক মনোজ কুমার। শুরুতে দর্শকসংখ্যা কম থাকলেও ধীরে ধীরে দর্শকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে সিনেমাটির নাম। এরপর বাড়তে থাকে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা, দর্শক এবং আয়। সীমিত প্রচার ও স্বল্প বাজেট নিয়েও কীভাবে একটি সিনেমা দর্শকের মন জয় করতে পারে, ‘প্রেমাদা ওরালি’ এখন তার আলোচিত উদাহরণ।

কন্নড় সংবাদমাধ্যম নিউজ কর্ণাটকের এক প্রতিবেদনে সিনেমাটির সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মুক্তির ২৯ দিনের মধ্যে বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির আয় ১১৪ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। অল্প বাজেটে নির্মিত একটি সিনেমার এমন আয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সীমিতসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘প্রেমাদা ওরালি’। মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটির আয় ছিল ১০ লাখ রুপিরও কম। প্রথম সপ্তাহে মাত্র ৬০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হওয়ায় শুরুতে এর ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার সুযোগ ছিল না।

তবে সিনেমাটি দেখার পর দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া আসতে শুরু করে। একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে ছড়িয়ে পড়ে এর গল্প ও অভিনয়ের প্রশংসা। ধীরে ধীরে সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। এর প্রভাব পড়ে বক্স অফিসেও।

পিংকভিলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ভারতের বাজারে সিনেমাটি আয় করে ৬ কোটি ২৫ লাখ রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহে সেই আয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে। তৃতীয় সপ্তাহে সিনেমাটি আয় করে আরও ৩৯ কোটি রুপি।

চতুর্থ সপ্তাহেও সিনেমাটির ব্যবসায় খুব বেশি ভাটা পড়েনি। মুক্তির ২২তম থেকে ২৯তম দিন পর্যন্ত আট দিনে ছবিটি আয় করেছে ৩০ কোটি ৫০ লাখ রুপি। অর্থাৎ, এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ কোটি ৮১ লাখ রুপি আয় করেছে সিনেমাটি।

তবে মুক্তির ২৯তম দিনে আয় কিছুটা কমে প্রায় ২ কোটি রুপিতে নেমে আসে। তারপরও চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির এমন ব্যবসা নির্মাতাদের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থসংকটের মধ্যেও ব্যতিক্রমী প্রচার

‘প্রেমাদা ওরালি’র সাফল্যের পেছনে রয়েছে নির্মাতাদের কঠিন লড়াইয়ের গল্প। সিনেমাটি নির্মাণের সময় আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন পরিচালক মনোজ কুমার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে কাজ শেষ করার জন্য নিজের মূল্যবান জিনিসপত্র বন্ধক দেওয়ার কথাও ভাবতে হয়েছিল তাকে।

সিনেমার বাজেট কম থাকায় বড় পরিসরে প্রচার চালানোর সুযোগ ছিল না। সাধারণত বড় বাজেটের সিনেমার প্রচারে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিজ্ঞাপন ও প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ‘প্রেমাদা ওরালি’র নির্মাতাদের পক্ষে সেসব আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

তাই তারা বেছে নেন ভিন্ন পথ। সিনেমার অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা নিজেরাই প্রচারের দায়িত্ব নেন। রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের হাতে প্রচারপত্র ও আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। শুধু তাই নয়, গণপরিবহনের বাসে বাসে গিয়েও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। সিনেমাটি দেখার জন্য মানুষকে অনুরোধ করেন।

সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে এই প্রচারই একসময় দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করে। যারা সিনেমাটি দেখেছেন, তাদের অনেকে অন্যদেরও দেখার পরামর্শ দেন। এভাবে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে সিনেমাটির খবর। দর্শকের আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

কৃষক বাবা ও ছেলের সম্পর্কের গল্প

‘প্রেমাদা ওরালি’ মূলত গ্রামীণ জীবনের পটভূমিতে নির্মিত একটি পারিবারিক ও প্রেমের গল্প। সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে কৃষক নাগান্না ও তার ছেলে শান্তুকে ঘিরে।

স্ত্রীকে হারানোর পর একাই ছেলেকে বড় করেন নাগান্না। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার অনেক চিন্তা। তিনি চান, শিক্ষিত একটি মেয়ের সঙ্গে শান্তুর বিয়ে হোক। বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী শান্তুর বিয়ে হয় রুক্মিণীর সঙ্গে।

কিন্তু শান্তুর আত্মীয় বসন্তার মনে তার প্রতি আলাদা টান রয়েছে। অন্যদিকে রুক্মিণীকে বিয়ে করার পর শান্তুর দাম্পত্য জীবনেও নানা জটিলতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের সম্পর্ক, প্রত্যাশা ও অনুভূতি নিয়ে তৈরি হয় নানা টানাপোড়েন।

গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন, প্রেম, পারিবারিক বন্ধন, দাম্পত্যের সমস্যা এবং নারীর মনের অনুভূতি সিনেমাটির গল্পে গুরুত্ব পেয়েছে। সম্পর্কের নানা দিক সহজভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পরিচালক মনোজ কুমার।

সিনেমাটিতে নাগান্না চরিত্রে অভিনয় করেছেন রঙ্গায়না রঘু। শান্তু চরিত্রে রয়েছেন শ্রী রাম। রুক্মিণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাপস্বিনী পুনাচ্চা এবং বসন্তা চরিত্রে দেখা গেছে রামিকা শিবুকে।

প্রশংসা করেছেন যশ ও ঋষভ শেঠি

‘প্রেমাদা ওরালি’র সাফল্য কন্নড় চলচ্চিত্রশিল্পের পরিচিত তারকাদেরও নজর কেড়েছে। ‘কেজিএফ’ সিনেমার অভিনেতা যশ এবং ‘কান্তারা’র অভিনেতা ও পরিচালক ঋষভ শেঠি গল্পনির্ভর সিনেমাটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য দর্শকদের প্রশংসা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাধারণত বড় তারকা, পরিচিত নির্মাতা কিংবা ব্যাপক প্রচার একটি সিনেমার দর্শক টানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ‘প্রেমাদা ওরালি’র ক্ষেত্রে সীমিত প্রচারের মধ্যেও গল্প ও দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিনেমাটির সাফল্য তাই কন্নড় চলচ্চিত্রে ছোট বাজেটের গল্পনির্ভর কাজের সম্ভাবনা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

এদিকে কর্ণাটকে ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার দৌড়েও রয়েছে ‘প্রেমাদা ওরালি’। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের বক্স অফিসে রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর আয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে সিনেমাটি। তবে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করতে যাচাই করা বক্স অফিসের হিসাব এবং অন্য সিনেমাগুলোর আয় বিবেচনায় নিতে হবে।

১১৪ কোটি রুপি আয় মানেই নির্মাতাদের ১১৪ কোটি লাভ নয়

সিনেমাটির বিশ্বজুড়ে ১১৪ কোটি রুপি আয়ের খবর সামনে এলেও এই অর্থের পুরোটাই নির্মাতাদের হাতে থাকবে না। কারণ, বক্স অফিস থেকে পাওয়া মোট আয়ের একটি অংশ প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ পায়। এ ছাড়া পরিবেশনা, প্রচার এবং অন্যান্য খরচও রয়েছে।

এসব ব্যয় বাদ দেওয়ার পর নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আয় বা মুনাফা নির্ধারিত হয়। তাই ১১৪ কোটি রুপিকে সিনেমাটির মোট আয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, নিট মুনাফা হিসেবে নয়।

তারপরও তিন কোটি রুপির কম বাজেটে নির্মিত একটি সিনেমার বিশ্বজুড়ে ১১৪ কোটি রুপি আয় নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। প্রথম দিনে ১০ লাখ রুপিরও কম আয়, মাত্র ৬০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী এবং প্রচারের জন্য অর্থসংকট—সব বাধা পেরিয়ে ‘প্রেমাদা ওরালি’ এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

বাসে বাসে চিঠি বিলি করে দর্শককে সিনেমা দেখার আমন্ত্রণ জানানো থেকে শুরু করে মুখে মুখে প্রচারের মাধ্যমে ব্যবসা বাড়ানো—পুরো যাত্রাটিই দেখিয়েছে, বড় বাজেটের প্রচার না থাকলেও দর্শকের ভালো লাগা একটি সিনেমাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি কাটিয়ে সচল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে চার দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা...