34.9 C
Dhaka
বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

নেতানিয়াহু ও বিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কী হবে ইসরায়েলে?

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা বিরোধী জোট—কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। ফলে নির্বাচনের পর দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু বুথফেরত জরিপের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট এবং বিরোধী জোট—কোনোটিই নিজস্ব শক্তিতে এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারছে না। ফলে সরকার গঠনের জন্য ছোট দলগুলোর সমর্থন আদায়, আসন ভাগাভাগি এবং রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা গেছে। দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ভোট দেওয়ার হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এর আগে ২০২২ সালের নির্বাচনে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে মাত্র ১০টি আসন পেয়েছিল। তবে এবার আরব ভোটারদের বাড়তি অংশগ্রহণ এবং বুথফেরত জরিপের ফলাফলে তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

জরিপ অনুযায়ী, পরবর্তী নেসেটে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৮টি আসন পেতে পারে। এই হিসাব চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিফলিত হলে সরকার গঠন নিয়ে দরকষাকষিতে দলগুলোর অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোটদানের হার বাড়ার পেছনে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সরকারের নীতির প্রতি অসন্তোষকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নীতি, আরব অধ্যুষিত এলাকায় বাড়িঘর ভাঙা এবং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে আরব দলগুলোর আসন বাড়লেও তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা সহজ হবে না। ইসরায়েলের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে নিজেদের আপত্তির কথা আগেই জানিয়েছেন। ফলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা বিরোধী শিবির—কোনো পক্ষই তাদের সমর্থন নিতে আগ্রহী না হলে সরকার গঠনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

এ অবস্থায় নতুন সরকার গঠনের পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতার ওপর। ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট এমন একজন রাজনৈতিক নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, যাঁর পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

দায়িত্ব পাওয়ার পর ওই নেতাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জোট গঠন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে মন্ত্রিসভার পদ বণ্টন, নীতিগত অবস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমঝোতা প্রয়োজন হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনের মতো সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী জোট—কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ছোট দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। আবার আদর্শগত বিরোধ ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে সম্ভাব্য জোটের পরিসরও সীমিত হয়ে যেতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বিরোধী দলগুলোর সরকার গঠনের সক্ষমতা—দুটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর কোন পক্ষ কতটি আসন পায় এবং প্রেসিডেন্ট কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন, তার ওপর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে, বুথফেরত জরিপের এই চিত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, নির্বাচনে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ইসরায়েলে সরকার গঠন সহজ হবে না। বরং রাজনৈতিক দরকষাকষি, জোটের হিসাব-নিকাশ এবং বিভিন্ন দলের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে নতুন সরকারের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

চালক ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই কারও কারও গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রী

চালকদের আচরণ পরিবর্তন এবং গাড়ির ফিটনেস নিয়ে কথা বললেই কারও কারও অস্বস্তি হয় বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ...