| Your Ads Here 100x100 |
|---|
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, দলটি এখন পর্যন্ত ২১ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ ভোট।
ভোট গণনা চলমান থাকায় চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রাথমিক ফলাফলে দুই দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত কোন দল কতটি আসন পাবে এবং কোন পক্ষ সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর।
ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থা বাংলাদেশের মতো সরাসরি আসনভিত্তিক নয়। দেশটির নাগরিকেরা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে দলগুলো পার্লামেন্টে আসন পায়। এরপর বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করে জোট গঠনের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য সাধারণত অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন হয়। দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো একক দল এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট ও আসন সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ভোট দেওয়ার হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় বেশি।
আগের নির্বাচনে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে মাত্র ১০টি আসন পেয়েছিল। এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের বেশি অংশগ্রহণের পেছনে কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নীতি, আরব জনগোষ্ঠীর বসতবাড়ি ভাঙার ঘটনা এবং আরব অধ্যুষিত এলাকায় সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।
বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, নতুন নেসেটে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৮টি আসন পেতে পারে। তবে এটি জরিপভিত্তিক হিসাব, চূড়ান্ত ফলাফল নয়। ভোট গণনা শেষ হলে এসব দলের প্রকৃত আসনসংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিরোধী শিবির—দুই পক্ষেরই আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক আপত্তি রয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থানও জানিয়েছেন।
ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠনের আলোচনা আরও জটিল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ছোট দলগুলোর সমর্থন, জোটের শর্ত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে সমঝোতা নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর যে দলীয় নেতা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখাতে পারবেন, তাঁকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
দায়িত্ব পাওয়ার পর মনোনীত নেতাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করে জোট গঠন করতে হবে। এ সময় আসন ভাগাভাগি, মন্ত্রিসভার পদ বণ্টন এবং সরকারের নীতি নিয়ে সমঝোতা করতে হয়। প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলে তিনি নেসেটে আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, ভোট গণনার বর্তমান পর্যায়ে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এগিয়ে থাকলেও কেবল সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দিয়ে সরকার গঠন নিশ্চিত হয় না। চূড়ান্ত আসনসংখ্যা এবং বিভিন্ন দলের সমর্থনের ওপরই নির্ভর করবে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে।

