21 C
Dhaka
সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

লিবিয়ায় ৩ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার পর সাগরে নিক্ষেপ

জনপ্রিয়
লিবিয়ায় অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিন বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার আদিত্যপুর গ্রামের ইমরান খান, রাজৈর উপজেলার দুর্গাবর্দ্দী গ্রামের মুন্না তালুকদার এবং একই উপজেলার ঘোষলাকান্দি গ্রামের বায়েজিত শেখ। এ ঘটনায় পরিবার–পরিজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তারা মানবপাচারকারী দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ইমরানকে আটকে রেখে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
নিহত ইমরানের পরিবার জানায়, চলতি বছরের ৮ অক্টোবর তিনি সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত শিপন খান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ২২ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর চুক্তি হয়। পরিবারের অভিযোগ—লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ইমরানকে আটকে রেখে আরও ১৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়। ১ নভেম্বর ভূমধ্যসাগরে নৌকায় ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি প্রাণ হারান। পরিবার ৪ নভেম্বর তাঁর মৃত্যুসংবাদ পায়।
একই দিনে প্রাণ হারান মুন্না ও বায়েজিত
একই নৌকায় থাকা রাজৈর উপজেলার মুন্না তালুকদার ও বায়েজিত শেখও একই ঘটনায় নিহত হন বলে স্বজনেরা জানান। তাঁদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
দালালের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ স্বজনরা
নিহতদের পরিবার দাবি করছে, শিপন খান লিবিয়ায় অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন যুবককে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দিয়ে আসছিলেন। পূর্বেও একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ থাকলেও তিনি আইনের আওতায় আসেননি বলেও অভিযোগ।
ইমরানের বোন ফাতেমা আক্তার বলেন,
“শিপনের প্রতারণার কারণেই আমার ভাই আজ নেই। আমরা তাঁর কঠোর শাস্তি চাই। অন্তত একবার ভাইয়ের মরদেহ দেখতে চাই।”
মুন্নার খালা খাদিজা আক্তার বলেন,
“দালালের হাতে ৪০ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন ভাগ্নেকে হারালাম। মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা চাই।”
বায়েজিতের বাবা কুদ্দুস শেখ বলেন,
“ছেলের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। দালাল পরিবার এখন গা-ঢাকা দিয়েছে।”
তবে শিপনের এক স্বজন সেতারা বেগম দাবি করেন,
“শিপন অনেককে লিবিয়ায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু কারও গুলিতে মারা যাওয়ার খবর আগে শুনিনি। পরিবারের লোকজনও বাড়িতে নেই।”
পুলিশের বক্তব্য
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“লিবিয়ায় তিন যুবকের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি। স্বজনরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবপাচারকারীদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

হারিয়ে যেতে বসেছে কুড়িগ্রামে বাঁশের তৈরি চাটাই ও অন্যান্য বাঁশ পণ্য

  আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি একসময় কুড়িগ্রামের গ্রামীণ জীবনের অপরিহার্য উপকরণ ছিল বাঁশের তৈরি ধারা, চালুনি, কুলা, ডালা, মাছ...