নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা-এ রাজাপুর খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি, এনসিপি-জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ–সমর্থিত এক ইউপি সদস্যের পক্ষের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
ইজারা প্রক্রিয়া
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য খেয়াঘাটটি অস্থায়ী ইজারা দিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করা হয় ৩১ লাখ ৭০ হাজার ৭৫০ টাকা। মঙ্গলবার ছিল দরপত্র জমার প্রথম দিন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
সকাল থেকেই উপজেলা অফিস এলাকায় তিন পক্ষের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন শহীদুল ইসলাম টিটু ও নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক যুবায়ের আহমেদ সরদার জামায়াত নেতাকর্মীদের নিয়ে উপস্থিত হন। একই সময়ে ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রশিদও তার সমর্থকদের নিয়ে দরপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এনসিপি নেতা যুবায়ের আহমেদ সরদার পুলিশ ডেকে ইউএনও কার্যালয়ে থাকা বিএনপি কর্মীদের সরানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর এনসিপি-জামায়াত কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ
-
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এনসিপি নেতা তাওহীদুল ইসলাম ও জামায়াত নেতা আবু বকর আহত হন
-
এ সময় ইউপি সদস্য রশিদের সমর্থকেরা দরপত্র জমা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা হয়
-
পরে বিএনপির একাংশও তাদের ওপর হামলায় যুক্ত হলে পরিস্থিতি ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়
-
পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, দোকানপাটও বন্ধ হয়ে পড়ে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
পরে পুলিশ ও র্যাবের অতিরিক্ত সদস্য এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পক্ষগুলোর বক্তব্য
-
এনসিপি ও জামায়াতের অভিযোগ: বিএনপি কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে বাধা দিয়ে হামলা চালিয়েছে
-
বিএনপির দাবি: তাদের কর্মীদের ওপরই প্রথম হামলা হয়েছে
-
ইউপি সদস্য রশিদ বলেন, তিনি সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন না, শুধু দরপত্র জমা দিয়েছেন

