ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদপত্র -এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে ইসরায়েল।
প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা কার্যক্রম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, এসব তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
খবরে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্টিভ উইটকফ-সহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর-এর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে তারা বলেছে, ইসরায়েল-সংক্রান্ত পাল্টা গোয়েন্দা সতর্কতার মাত্রা সম্প্রতি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের মধ্যে কৌশলগত কিছু মতপার্থক্য তৈরি হওয়ার পরই এই গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে জনাথন পোলার্ড গোপন তথ্য ইসরায়েলের কাছে সরবরাহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করেন।
একই সঙ্গে প্রতিবেদনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, গোয়েন্দা নজরদারি শুধু ইসরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০১৩ সালে এডওয়ার্ড স্নোডেন ফাঁস করা নথিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রও মিত্র দেশগুলোর নেতাদের যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে আঙ্গেলা মারকেল-এর নামও উঠে আসে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের গোয়েন্দা মাত্রাটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।