যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা পূর্বনির্ধারিত আলোচনা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুরু থেকেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ আগেই তাদের সফরসূচি বাতিল করতে শুরু করেছিল।
এর মধ্যেই লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল-এর মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেবাননের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইরানের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘায়ি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা সম্ভব নয়। তিনি লেবাননে চলমান হামলার কঠোর সমালোচনা করে সতর্ক করেন যে, এর গুরুতর ও তাৎক্ষণিক পরিণতি হতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে তা কার্যকর হয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি অনেক সময় মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়নি।
আলোচনা কেন পিছিয়ে গেল?
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে শুক্রবার থেকে সেই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সফর বাতিল করেন। একইভাবে ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে বিবেচিত বাঘের গালিবাফ এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী শাহবাজ শরিফ-ও সফর বাতিল করেন।
এরপর সুইজারল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, আলোচনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে তারা যেকোনো সময় বৈঠক আয়োজন করতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প
চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন কি না।
সমালোচকদের মতে, সমঝোতার ফলে ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, তেল রপ্তানির পথ খুলছে এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
তবে ট্রাম্প এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরানই বেশি আগ্রহী ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানকে কোনো অর্থ সরাসরি দেওয়া হবে না এবং চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, লেবাননে সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অনিশ্চয়তা মিলিয়ে অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।