26 C
Dhaka
রবিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬

গণপূর্তে অনিয়মের রাজত্ব? একের পর এক অভিযোগে প্রশ্নের মুখে প্রধান প্রকৌশলী

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

একটি সরকারি দপ্তর।
যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, হাসপাতাল, অফিস ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব।

কিন্তু সেই গণপূর্ত অধিদপ্তরেই যদি ওঠে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন, পদোন্নতিতে অনিয়ম এবং সনদ জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ—তাহলে প্রশ্ন ওঠে, আসলে চলছে কী?

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী।

ভুয়া পিএইচডি সনদ ব্যবহারের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠতার নিয়ম ভেঙে পদ পাওয়া, বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজের নকশা অনুমোদনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ—এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে উঠেছে বদলি বাণিজ্য ও একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খালেকুজ্জামান চৌধুরী।

তাহলে কী ঘটছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে?

আজকের প্রতিবেদনে থাকছে অভিযোগ, নথিতে থাকা তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের বিস্তারিত।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গণপূর্ত অধিদপ্তরে শুরু হয় নেতৃত্ব নিয়ে নতুন সমীকরণ।

অভিযোগ রয়েছে, জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পান।

এরপর নিজের পছন্দের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন—এমন অভিযোগ করেছেন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—

বদলি ও পদায়ন,
পদোন্নতি,
টেন্ডার কমিশন,
বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ,
এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ আনার নামে অর্থ সংগ্রহ।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো প্রভাবিত করা হয়েছে।

অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান, ঢাকা সার্কেল-১ থেকে বদলিকৃত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান এবং ঢাকা সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরী।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে লটারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে এই লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়।

কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের বদলির ক্ষেত্রে সেই স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন প্রকৌশলী।

অভিযোগ হলো—

লটারি শুরু হওয়ার আগেই নাকি পছন্দের কর্মকর্তাদের নাম নির্দিষ্ট বাক্সে রাখা হয়েছিল।

কেউ কেউ পেয়েছেন ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থল।

আবার দীর্ঘদিন ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা অনেক কর্মকর্তাকে কয়েক মাসের ব্যবধানেই ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে।

এমনকি অভিযোগ উঠেছে, পছন্দের কর্মস্থলে বদলি পেতে ১০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে কি না, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগকারীরা কয়েকজন কর্মকর্তার পদায়নের উদাহরণ তুলে ধরেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রংপুর থেকে আবু তাহের মোহাম্মদ খাইরুল বাশারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ উপবিভাগে বদলি করা হয়।

লালমনিরহাট থেকে গোলাম রাব্বিকে রক্ষণাবেক্ষণ উপবিভাগে এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে ছাইফুল ইসলামকে হাইকোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়নের অভিযোগ রয়েছে।

আবার এ এস এম সাখওয়াত ইসলাম ও রেজাউল করিম মিঠুকে পুনরায় ঢাকায় পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান সাদ চাকরিজীবনে দীর্ঘ সময় ঢাকার বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা কিছু প্রকৌশলীকে আবার ঢাকার বাইরে পাঠানো হয়েছে।

এ কারণেই প্রশ্ন—

বদলি কি সত্যিই লটারির ভিত্তিতে হয়েছে, নাকি লটারির আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল কার কোথায় পোস্টিং হবে?

বদলি প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ঢাকা বিভাগের লটারির বাক্স নিয়ে।

তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের জন্য রাখা হয়েছিল দুটি বাক্স—

একটি ‘ঢাকা জেলা’ এবং অন্যটি ‘ঢাকা বিভাগ’ নামে।

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—

ঢাকা জেলার বাক্সে শুধু সংশ্লিষ্ট যোগ্য কর্মকর্তাদের নাম থাকার কথা থাকলেও সেখানে দেশের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নাম কীভাবে এলো?

অভিযোগ রয়েছে, লটারির আগে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সিভিলের ঢাকা জেলার বাক্সে ৪১ জনের নাম যুক্ত করা হয়েছিল।

এমনকি ‘অতিরিক্ত কর্মকর্তা’ দেখিয়ে আগে থেকেই নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম ঢাকার বাক্সে রাখা হয়েছিল—এমন অভিযোগও রয়েছে।

এরপর লটারিতে তাদের নাম উঠিয়ে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এই অভিযোগের পর কয়েকজন প্রকৌশলী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

চলতি বছরের ৩ মার্চ পৃথক কয়েকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে একদিনেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের অর্ধশতাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

এত বড় পরিসরে বদলির আগে মন্ত্রণালয়কে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছিল কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী প্রধান প্রকৌশলীকে তলব করে ব্যাখ্যা চান বলে জানা যায়।

কিন্তু সেই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ৫ ও ৮ মার্চ পৃথক আদেশে আগের গণবদলির অধিকাংশ বাতিল করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এরপরও ছোট পরিসরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো অর্থের বিনিময়ে বদলি ও পদায়ন।

অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ৬৫ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাকে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি বা পদায়নের সুযোগ করে দিতে অর্থ লেনদেন হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই অর্থের পরিমাণ ছিল—

১০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে কোটি টাকা পর্যন্ত।

আরও অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিংবা আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

এবার আসা যাক প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো অভিযোগে।

নথি অনুযায়ী, ভুয়া পিএইচডি সনদ দেখিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ছুটিতে প্রেষণ ভোগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল।

বিভাগীয় তদন্তে জালিয়াতি ও অসদাচরণের বিষয় প্রমাণিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই ঘটনায় দোষ স্বীকারও করেছিলেন।

তবে পরে তাকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়।

এরপর কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং পরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান বলে নথির বরাতে দাবি করা হয়েছে।

অর্থাৎ অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—

যার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল, তিনি কীভাবে দ্রুত একাধিক পদোন্নতি পেলেন?

খালেকুজ্জামান চৌধুরীর চাকরিজীবন নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাকরিজীবনে সরকারি প্রেষণ ও ছুটির সুযোগে তিনি প্রায় ১১ বছর অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেছেন।

আর পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হলেই দেশে ফিরে আসার অভিযোগও রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা থাকার পরও কীভাবে দ্রুত পদোন্নতি হলো—এ প্রশ্নও তুলেছেন তার সহকর্মীদের কেউ কেউ।

প্রধান প্রকৌশলী পদে যাওয়ার দৌড়েও রয়েছে বিতর্ক।

মন্ত্রণালয়ের নথির বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, জ্যেষ্ঠতার তালিকায় খালেকুজ্জামান চৌধুরীর অবস্থান তিন নম্বরে থাকলেও প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার সংক্ষিপ্ত তালিকায় নিজের নাম এক নম্বরে দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তথ্য সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড বা এসএসবিতে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমন অভিযোগও রয়েছে, প্রতিযোগী কর্মকর্তাদের বাদ দিতে তাদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলার তথ্য সামনে আনা হয়েছিল।

এখানেও মূল প্রশ্ন—

পদোন্নতির প্রতিযোগিতায় প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কাউকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না?

কয়েকজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীর অভিযোগ আরও গুরুতর।

তাদের দাবি, রামপুরা থানার একটি মামলায় কৌশলে ৪৭ প্রকৌশলীর নাম আসামির তালিকায় ঢোকানো হয়।

পরে এসব মামলার তথ্য এসএসবি কমিটির কাছে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

যদি অভিযোগটি সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু একজন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয় নয়—বরং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করে।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও নথিপত্র।

২০২৪ সালের বেইলি রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে।

গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান ৪৬ জন।

ঘটনার পর ভবনটির অনুমোদন ও নকশা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

তদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ২০১১ সালে ভবনটির নকশা অনুমোদনের সঙ্গে তৎকালীন রাজউকের অথরাইজড অফিসার হিসেবে মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নামও আসে।

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—

যে ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পরে এত বড় প্রশ্ন উঠল, সেই ভবনের অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি পরবর্তীতে কীভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে এলেন?

তবে এটিও গুরুত্বপূর্ণ—

একটি ভবনের নকশা অনুমোদনের দায় নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সময়ের সব কর্মকর্তা, নথি ও দায়িত্বের পরিধি বিবেচনা করতে হয়।

খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে শুধু বদলি বা পদোন্নতি নয়, আরও বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ করা হয়েছে—

এক প্রকল্পের একাধিক প্যাকেজ দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল উত্তোলন,

কাজ না করেই বিল প্রদান,

টেন্ডার কমিশন,

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ আনার নামে ফান্ড সংগ্রহ,

বিভিন্ন অনিয়মে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া,

এমনকি কিছু কর্মকর্তাকে পুনর্বহালের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করে অধিদপ্তরের অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

এত অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি দাবি করেছেন—

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বদলিতে কোনো অনিয়ম হয়নি।

বিষয়টি মন্ত্রণালয় জানে।

নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারিতে বদলি করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্বাহী প্রকৌশলীরা।

তাদের বদলি লটারির মাধ্যমে নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে।

আর সিনিয়র প্রকৌশলীদের প্রতিযোগী ভেবে তাদের বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যা মামলার নথি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য—

“আমার কোনো প্রতিযোগী নেই।”

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানও বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বদলিতে অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি করা হবে না—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব প্রধান প্রকৌশলীকে দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার দৌড়ে থাকা সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত নথি পাঠানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে সচিব জানান—

গণপূর্ত অধিদপ্তরে কর্মকর্তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, খালেকুজ্জামান চৌধুরী তালিকা অনুযায়ী তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন এবং তার সিনিয়র কর্মকর্তাও আছেন।

প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার জন্য গ্রেড-১ সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই এসএসবিতে পাঠানো হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত তালিকা অনুযায়ী যিনি যোগ্য হবেন, তাকেই প্রধান প্রকৌশলী করা হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে প্রশ্ন শুধু একজন প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে নয়।

প্রশ্ন উঠবে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে।

বদলি কি সত্যিই লটারির মাধ্যমে হচ্ছে?

নাকি লটারির আগেই ঠিক হয়ে যাচ্ছে কার নাম কোন বাক্সে থাকবে?

পছন্দের কর্মস্থলে যেতে কি সত্যিই অর্থ লেনদেন হয়েছে?

পদোন্নতিতে কি জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করা হয়েছে?

ভুয়া সনদের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তা কীভাবে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠলেন?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—

এত অভিযোগের পরও যদি কার্যকর তদন্ত না হয়, তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য।

কারণ গণপূর্ত অধিদপ্তর শুধু একটি সরকারি অফিস নয়।

দেশের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠান সরাসরি জড়িত।

তাই এখানে কোনো অনিয়ম থাকলে তার প্রভাব পড়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ, সরকারি প্রকল্প এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর।

অভিযোগ সত্য নাকি মিথ্যা—তা তদন্তেই পরিষ্কার হওয়া উচিত।

আর সেই তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

শরিফুলের তাণ্ডবে অস্ট্রেলিয়া বিপাকে, ক্যারিয়ারসেরা বোলিং

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের পেসারদের দাপট যেন থামছেই না। রউইন টেস্টে হাসান মাহমুদের পর এবার ম্যাকাই টেস্টে জ্বলে উঠলেন চোট...