34.9 C
Dhaka
বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

ভারতের অন্ধ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাত, দুই রাজ্যে সতর্কতা

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলের কাছে স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করে। এর প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় প্রকাশিত আবহাওয়া বুলেটিনে আইএমডি জানায়, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চলে অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানামের উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এটি ‘অতি তীব্র’ ঘূর্ণিঝড়। এ শ্রেণিটি তাদের স্কেলে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র নরসাপুরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার পূর্বে, ইয়ানামের ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে, কাকিনাড়ার ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মছলিপত্তনমের ৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে অবস্থান করছিল। ওই সময় ঘূর্ণিঝড়টি প্রায় স্থির ছিল বলে জানায় আইএমডি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে প্রায় ১ থেকে ১ দশমিক ৫ মিটার বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এতে অন্ধ্র প্রদেশের নিচু উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশার প্রশাসন। দুই রাজ্য মিলিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ২৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ২১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে কলিঙ্গপত্তনমে ১৪৭ মিলিমিটার, কাকিনাড়ায় ১১৮ মিলিমিটার এবং মছলিপত্তনমে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। এ ছাড়া ওড়িশার গঞ্জাম ও বালেশ্বরসহ কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঝোড়ো বাতাসে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও বাতিল করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবারও অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়া, যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে আরও সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে উচ্ছেদ অভিযান: ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর...