31.1 C
Dhaka
শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

এক-দুই বিষয়ে ফেল করা ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে যেন আরও একটি বছর হারিয়ে না যায়, সে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত এ পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থী। আর দুই বিষয়ে ফেল করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন।

তিনি জানান, এবারের পরীক্ষায় মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। তবে যেসব শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছে, তাদের জন্য বিশেষভাবে দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যারা এক ও দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের পরীক্ষা আমরা এক মাসের মধ্যে নিয়ে নেব। তাহলে তাদের আগামী দিনে আর একটি বছর নষ্ট হবে না। এটি হচ্ছে আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা।’

পরীক্ষার সময় নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, সাত দিন কিংবা ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলেও এত কম সময়ে শিক্ষার্থীরা যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে না। অন্যদিকে পরীক্ষা নিতে বেশি দেরি হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হবে। তবে কোনোভাবেই এক মাসের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে না।

এদিকে এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট খাতা পুনরায় যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

গত বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়েছিল। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর ফল বা গ্রেড পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ হয়েছিল। এছাড়া নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানান তিনি। পরীক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নে বড় ধরনের ভুল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে যেন পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী ফল পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান, যে যা করেছে তার সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়া। কাউকে যেন অবমূল্যায়িত করা না হয়। স্বচ্ছ ফল আমাদের দিতে হবে।’

এবারের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও শেখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু ঘাটতি দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তার মতে, প্রকাশিত ফলাফল শিক্ষার বর্তমান অবস্থার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। এই ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে দূর করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো কাজ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। পাসের হার কমে যাওয়াকে তিনি সন্তোষজনক মনে করেন না।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শেখার পদ্ধতি, অভিভাবকদের ভূমিকা, শিক্ষকদের পাঠদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা বের করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইংরেজি বিষয়ে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে ১৩ হাজার ৮৪৯ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এবার শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে কাছাকাছি অবস্থিত একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একীভূত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে কোনো শিক্ষকের চাকরি যাবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একীভূত করার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। বাড়িতে পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও মাদক থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতে বাজেট বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।

আগের বছরগুলোতে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বেশি থাকার বিষয়টি তদন্ত করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর আগের ফলাফলে কোনো ধরনের ভুল বা অসংগতি ছিল কি না, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পরীক্ষক ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএর শর্ত শিথিল করা হবে কি না, জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয় কী ধরনের যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে, সেটি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ সবার জন্য থাকবে।

তিনি জানান, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে এবার মোট আসন রয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার। অন্যদিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী। ফলে মোট আসনের তুলনায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম।

এনসিটিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এসব বিষয় তদন্ত ও পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের দুর্বলতা রয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষার ফল পরিবর্তনের চেষ্টার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলোও তদন্ত করে দেখা হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, দেশের পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম, পরীক্ষকদের দক্ষতা এবং প্রশ্নপত্র তৈরিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিনের কিছু দুর্বলতা রয়েছে। এসব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

শ্রমিক আন্দোলনে মিরপুরের চার এলাকায় যান চলাচলে ভোগান্তি

রাজধানীর মিরপুরে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে এসব সড়ক দিয়ে...