30.5 C
Dhaka
মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬

অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের প্রথম আয় প্রকাশ, বিনিয়োগকারীদের নজর এআই ও আইফোনে

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করতে যাচ্ছেন জন টার্নাস। সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তার প্রথম আয়বিষয়ক সম্মেলন ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ সম্মেলনে আগামী প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের পূর্বাভাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে অ্যাপলের পরিকল্পনা এবং মেমোরি চিপের বাড়তি দামের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

গত সেপ্টেম্বরে দীর্ঘদিনের প্রধান নির্বাহী টিম কুকের কাছ থেকে অ্যাপলের দায়িত্ব নেন জন টার্নাস। তার নেতৃত্বে সম্প্রতি ভাঁজ করা যায় এমন আইফোন, স্মার্ট হোম হাব এবং টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এসব পণ্য চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাজারে এসেছে। ফলে এসব পণ্যের বিক্রি অ্যাপলের আর্থিক ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা জানতে চাইবেন বিনিয়োগকারীরা।

তবে নতুন পণ্য বাজারে আনার পাশাপাশি অ্যাপলকে বড় ধরনের ব্যয়চাপের মুখেও পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের দাম দ্রুত বাড়ছে। এতে আইফোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার ওপরও চাপ পড়তে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অ্যাপলের আয় প্রায় ১১ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ৩৩৯ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৯০৪ কোটি ডলার হতে পারে।

তবে মেমোরি চিপের বাড়তি দামের কারণে মুনাফার প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, গত ছয় প্রান্তিকের মধ্যে এবারই অ্যাপলের মুনাফার প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম হতে পারে। ফলে নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসের সামনে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

ছুটির মৌসুমের বিক্রি নিয়ে আগ্রহ

বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে আগামী প্রান্তিকে অ্যাপলের বিক্রির পূর্বাভাসের দিকে। বিশেষ করে বছরের শেষভাগে ছুটির মৌসুমে নতুন পণ্যগুলোর বিক্রি প্রতিষ্ঠানটির আয় বাড়াতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।

অক্টোবরের শেষ দিকে বাজারে এসেছে অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন আইফোন ডুয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে ফোনটির প্রারম্ভিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। বাজারে আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনলাইনে ফোনটির প্রাথমিক মজুত শেষ হয়ে যায়। এতে নতুন ফোনটির প্রতি ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

তবে ফোনটির বিক্রি নিয়ে আশাবাদের পাশাপাশি কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেছেন, ফোনটির ভেতরের পর্দার ভাঁজ বরাবর ফাটল ও দাগ দেখা যাচ্ছে। এ সমস্যার কারণে অ্যাপল ক্ষতিগ্রস্ত ফোন বদলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, পর্দার সমস্যা থাকলেও আইফোন ডুয়ের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ দ্রুত সমাধান করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফোন সময়মতো বদলে দেওয়াই অ্যাপলের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংক অব আমেরিকার হিসাবে, আইফোন ডুয়ে অর্ডার দেওয়ার পর ক্রেতাদের গড়ে ৭৯ দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। দীর্ঘ অপেক্ষার সময় ফোনটির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধানের বিষয়টি তুলে ধরছে। তবে এই চাহিদা ধরে রাখতে অ্যাপল কতটা সক্ষম হবে, তা আগামী প্রান্তিকের বিক্রির ফলাফলে স্পষ্ট হতে পারে।

এআই কৌশল ও সিরির উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন

আয়বিষয়ক সম্মেলনে অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল নিয়েও জন টার্নাসের বক্তব্য জানতে চাইবেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে অ্যাপলের ভার্চ্যুয়াল সহকারী সিরির উন্নয়ন এবং এআই প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে তাদের।

প্রযুক্তি খাতের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো যখন এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে, তখন অ্যাপল তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে এআই সেবা তৈরি করছে।

তবে এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির মধ্যে অ্যাপল কীভাবে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে, সেটি বড় প্রশ্ন। নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসের পরিকল্পনা এবং এআই খাতে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছে।

সেবা ব্যবসার প্রবৃদ্ধিও চাপে

অ্যাপলের সেবা ব্যবসার আয় ও প্রবৃদ্ধিও আলোচনায় আসতে পারে। অ্যাপ স্টোর, বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা এবং অন্যান্য ডিজিটাল সুবিধা নিয়ে গড়ে ওঠা এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

বিশ্লেষকদের ধারণা, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অ্যাপলের সেবা ব্যবসার আয় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ১৫৬ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি গত তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর হতে পারে।

সব মিলিয়ে নতুন পণ্য বাজারে আনা, মেমোরি চিপের বাড়তি দাম, এআই প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতা এবং সেবা ব্যবসার ধীর প্রবৃদ্ধি—সবকিছু মিলিয়ে অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের প্রথম আয়বিষয়ক সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিনিয়োগকারীরা শুধু বর্তমান আর্থিক ফলাফল নয়, বরং আগামী দিনগুলোতে অ্যাপলের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পরিকল্পনা সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পেতে চাইবেন।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

মুক্তির আগেই ৬৬৫ কোটি রুপি আয় ‘কিং’-এর, শাহরুখের নতুন সিনেমা ঘিরে বড় চমক

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান মানেই নতুন কোনো চমক। দীর্ঘ তিন বছর পর বড় পর্দায় নতুন সিনেমা নিয়ে ফিরছেন এই...