26.9 C
Dhaka
বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

ডেমোক্রেটরা জিতলে ‘মিস্টার ভেটো’ হবেন ট্রাম্প

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি জয়ী হয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে বিরোধীদের যেকোনো প্রস্তাবিত বিল আটকে দিতে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের যেকোনো একটিতে, অথবা উভয় কক্ষে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসকে কীভাবে সামলাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তখন আমাকে মিস্টার ভেটো হতে হবে। আমি কোনোভাবেই তাদের দেশটা নষ্ট করতে দেব না।’

ট্রাম্প জানান, ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকে পাঠানো যেকোনো প্রস্তাবিত বিল তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবেন। এভাবে নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিরোধীদের আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করবেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ডেমোক্রেটরা একের পর এক বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠাতে থাকবে, আর তিনি সেগুলোতে ভেটো দিতে থাকবেন। এক বা দুই মাস ধরে সব প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার পর যখন তারা বুঝতে পারবে যে এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, তখন নিজেরাই আলোচনার জন্য তাঁর কাছে আসবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য, শেষ পর্যন্ত কোনো একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে, তাই এটি নতুন কিছু নয়। তবে তিনি আশা করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরাই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে বিরোধীদের প্রস্তাবে বারবার ভেটো দেওয়ার পথে হাঁটতে হবে না।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প। এর আগে তাঁর প্রথম মেয়াদে মোট ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটোই চূড়ান্ত নয়। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য কোনো বিলের পক্ষে ভোট দিলে প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে বিলটি আইনে পরিণত হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, সুযোগ থাকলে আবারও নির্বাচনে লড়তে তিনি পছন্দ করতেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ভাষা এ ক্ষেত্রে বেশ কঠোর।

এ সময় মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। ওই সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুবারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধা রয়েছে তাঁর।

এদিকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। বর্তমানে এই কক্ষে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্রেটদের নতুন করে অন্তত তিনটি আসনে জয় পেতে হবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল কংগ্রেসে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর ভেটো ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে দেওয়া বক্তব্য নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

মুক্তির আগেই ৬৬৫ কোটি রুপি আয় ‘কিং’-এর, শাহরুখের নতুন সিনেমা ঘিরে বড় চমক

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান মানেই নতুন কোনো চমক। দীর্ঘ তিন বছর পর বড় পর্দায় নতুন সিনেমা নিয়ে ফিরছেন এই...