30.8 C
Dhaka
বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, রোহিঙ্গা সংকটে সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান।

লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় বাংলাদেশ ও চীনের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন যুগের সূচনা নিয়ে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘোষণার আলোকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

লিউ হাইশিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এ সম্পর্ক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া বর্তমান নেতৃত্বের দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মের হাত ধরে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এ কর্মসূচি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ। লিউ হাইশিং বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির সম্পর্ক আরও বিস্তৃত এবং বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী।

এ সময় বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান লিউ হাইশিং। দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক সামগ্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতি চীনের সমর্থনের কথা জানান লিউ হাইশিং।

সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ১৩ লাখ রোহিঙ্গার উপস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জবাবে লিউ হাইশিং বলেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

সাক্ষাৎকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ দেশটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ, স্বীকার করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে...