30.8 C
Dhaka
বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ, স্বীকার করলেন ট্রাম্প

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের গুরুত্বও ভোটাররা বুঝতে পেরেছেন। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির ব্যাপক সাফল্যের পর এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর পেছনে ইরানের বিষয়টি কিছুটা দায়ী। তবে একই সঙ্গে মানুষ এটাও বুঝেছে যে ইরানের ক্ষেত্রে আমি যা করেছি, তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা।

রিপাবলিকানদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও বড় জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ট্রাম্পের প্রতি বিপুলসংখ্যক ভোটারের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।

নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য কংগ্রেসের ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই দুর্বল করে দিতে পারে। একই সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথেও বড় বাধা তৈরি হতে পারে।

তবে কংগ্রেসে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা তাঁর কাছে এমন সব আইন প্রস্তাব পাঠাবে, যেগুলো তাঁর বিবেচনায় ‘পাগলামি’। সেসব প্রস্তাবে তিনি ভেটো দেবেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা এমন সব প্রস্তাব পাঠাবে, যা পুরোপুরি পাগলামি। আর আমি সেগুলোতে ভেটো দেব। কয়েক মাস ধরে এভাবে ভেটো দেওয়ার পর তারা ফোন করে জানতে চাইবে, কীভাবে কাজগুলো সম্পন্ন করা যায়। তখন আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ব্যাপ্তি ও গভীরতা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে সাউথ ক্যারোলিনা, টেক্সাস ও আইওয়ার মতো রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যেও দলটি জয় পেয়েছে। এসব এলাকায় ডেমোক্র্যাটদের জয় আগে অনেকটাই অসম্ভব বলে মনে করা হতো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের প্রতি ভোটারদের হতাশা এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও চাপে পড়েছে।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত একাধিক জনমত জরিপেও ভোটারদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এবারের নির্বাচনে কানসাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও খ্রিস্টান ধর্মযাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন। প্রায় এক শতাব্দী আগে মহামন্দার পর থেকে এই অঙ্গরাজ্যে এমন ঘটনা আর ঘটেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেরড ব্রাউন এমন একটি আসনে জয় পেয়েছেন, যা দুই বছর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের দখলে ছিল। অন্যদিকে, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেমস টালারিকো রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন। প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কেলেঙ্কারি ও অভিযোগ ছিল।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওহাইও ও টেক্সাস—উভয় অঙ্গরাজ্যেই দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে এবারের নির্বাচনে এসব এলাকায় ডেমোক্র্যাটদের জয়কে রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাউথ ক্যারোলিনাতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শিশু বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুস রিপাবলিকান সিনেটর ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন। ২০২৪ সালে এই অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১৮ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ডারলিন গ্রাহাম তাঁর ভাই সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর ওই আসনে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রার্থী বাছাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রিপাবলিকান পার্টির অন্য অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীদের উপেক্ষা করে তিনি কেন প্যাক্সটন ও গ্রাহামকে সমর্থন দিয়েছিলেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

কেন প্যাক্সটন ২০২৩ সালে অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে, ডারলিন গ্রাহাম নিজের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কথা স্বীকার করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমেও নেতিবাচক আলোচনা হয়েছিল।

নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প প্যাক্সটন, গ্রাহাম ও ওহাইওর জন হাস্টেডের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালান। এ সময় তিনি দুই ডজনেরও বেশি জনসভায় অংশ নেন। সমর্থকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে বারবার বলেন, ব্যালট পেপারে তাঁর নামও রয়েছে বলে মনে করতে।

তবে নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করলে ট্রাম্পের সুরে ভিন্নতা দেখা যায়। মঙ্গলবার রাতে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হলে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমি তো ব্যালট পেপারে ছিলাম না! যদি থাকতাম, তবে আমরা বিশাল ব্যবধানে জয়ী হতাম! বিষয়টি খেয়াল করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’

নির্বাচনের ফলাফল ও ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রার্থী বাছাইয়ের মতো বিষয়গুলো রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপকে কতটা প্রভাবিত করবে, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন মার্কিন রাজনীতি পর্যবেক্ষকেরা।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ৩২৪ টাকা, নতুন দাম ২ লাখ ২৪ হাজার

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। এবার ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম।...