27.1 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

মারধর-ভাঙচুরের মামলায় পরীমণির আত্মসমর্পণ, আদালতে জামিন আবেদন

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আদালতে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। গত বুধবার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার আদালতে উপস্থিত হন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই মামলায় স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন পরীমণি। আইনজীবীর আশা, আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করে। অন্যদিকে, পরীমণির আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় পরীমণি আদালতে হাজির হতে পারেননি।

পরে বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমণির জামিন বাতিল করেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেওয়া হয়। এ আদেশের পরই বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি।

এর আগে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমণিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পরে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৫ জুন তারা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

মামলাটি ২০২১ সালের ৬ জুলাই দায়ের করা হয়। ওই দিন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল পান করতে অভ্যস্ত। তারা বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে গিয়ে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া পরীমণি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান বলেও অভিযোগ করেন নাসির।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তারা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার শৌচাগার ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।

অভিযোগে বলা হয়, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন। তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসার অনুরোধও করেন তিনি। একপর্যায়ে পরীমণি অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন।

নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাকে গালমন্দ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি নাসিরের দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন। পরে হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন তিনি। এতে নাসিরের মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করেন বাদী।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, পরীমণি ও তার সহযোগীরা নাসির উদ্দিনকে মারধর করেন, হত্যার হুমকি দেন এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরীমণি সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন বলেও উল্লেখ করেন বাদী।

তবে এসব অভিযোগ মামলার বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা। আদালতে বিচারাধীন মামলায় অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ার পরিকল্পনা সরকারের

মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শিল্পায়নকে গতিশীল...