ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযোগ ঘিরে দেশটিতে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকার দাবি করেছে, ৩ জানুয়ারির ওই অভিযানে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও মিত্র কিউবার সেনাসদস্যসহ মোট ৮৩ জন নিহত হয়েছেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার ৪৭ জন এবং কিউবার ৩২ জন সেনাসদস্য ছিলেন। তাঁর দাবি, অভিযানের সময় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে মাদুরোর বাসভবনে নামানো হয় মার্কিন বাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জানানো হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দল ‘গ্রে বুল’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে সমুদ্রপথে দেশ ছাড়তে সহায়তার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। দলটির দাবি, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তাঁকে নিরাপদে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। মাচাদোর অবস্থান ও যাত্রার উদ্দেশ্য নিয়েও পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে কিউবায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হাভানায় মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষজন কিউবান সেনা নিহত হওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদ জানান। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল অভিযানের নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলা ও কিউবা প্রসঙ্গে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন, যা নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। সরকারিভাবে সাত দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ খতিয়ে দেখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো সত্য হলে তা লাতিন আমেরিকার ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ তথ্যই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি-প্রতিদাবির ওপর নির্ভরশীল, এবং স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত ছাড়া প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়া কঠিন।