| Your Ads Here 100x100 |
|---|
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে পাকিস্তান ক্রিকেট দল যখন নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে স্পিনার উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্যসমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তার বোলিং ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে পাকিস্তানের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০৮ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণে বড় ভূমিকা রাখেন উসমান তারিক। ২.৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। তার বলেই আউট হন অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন।
গ্রিনের আউট হওয়ার ধরন এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়াই বিতর্কের জন্ম দেয়। আউট হয়ে ফেরার সময় এবং পরে ডাগআউটে উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন অনুকরণ করতে দেখা যায় তাকে। মাঠে ও ডাগআউটে তার এই আচরণ অনেকের চোখে চাকিংয়ের অভিযোগের ইঙ্গিত হিসেবেই ধরা পড়েছে, যদিও বিষয়টি নিয়ে গ্রিন বা অস্ট্রেলিয়া দল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এটি উসমান তারিকের ক্ষেত্রে নতুন কিছু নয়। এর আগেও পাকিস্তান সুপার লিগে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলার সময় দুই দফা তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আম্পায়ারদের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাকে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় এবং দুইবারই তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
নিজের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে উসমান বরাবরই আত্মবিশ্বাসী। তার ভাষ্য, জন্মগতভাবেই তার কনুইয়ে প্রাকৃতিক বাঁক রয়েছে, যা অনেকের কাছে বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনোই অবৈধভাবে বল ছোড়েন না এবং আইসিসির নির্ধারিত নিয়মের মধ্যেই বোলিং করেন।
গত মাসে আইএল টি-টোয়েন্টিতে খেলার সময়ও ইংল্যান্ডের ব্যাটার টম ব্যান্টনের কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন উসমান। সে সময় তিনি দাবি করেন, ক্রিকেট সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলেই এমন ভুল ধারণা তৈরি হয়।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, বল ছাড়ার সময় কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বেঁকে গেলে সেটি অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। তবে প্রাকৃতিকভাবে কারও কনুইয়ে অতিরিক্ত বাঁক থাকলে সেটি এই আইনের আওতায় পড়ে না।
সব বিতর্কের মাঝেও উসমান তারিক এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে ৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেট নিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪১ ম্যাচে ৬৭ উইকেট নিয়ে তিনি পাকিস্তানের স্পিন বিভাগে এক কার্যকর নাম হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন।
বিশ্বকাপের আগে এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

