ট্রাম্প আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ রেডিও সঞ্চালক Michael Savage-এর একটি বিতর্কিত চিঠি শেয়ার করেছেন, যেখানে
ভারত-চীন সহ কয়েকটি দেশ সম্পর্কে আপত্তিকর ও বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে।
চিঠিতে সেভেজ ভারত ও চীনকে “হেলহোল” বা “নরক” হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন, এসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করছে। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ব্যবস্থার অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করে এই নীতি বাতিলের আহ্বান জানান।
এছাড়া তার অভিযোগ, এসব দেশের মানুষ গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেয় এবং সেই শিশুর নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে পরবর্তীতে পুরো পরিবারকে দেশটিতে নিয়ে আসে। যদিও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের দাবি অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত এবং বাস্তবতার পূর্ণ প্রতিফলন নয়।
এই পোস্টটি এমন সময়ে এসেছে, যখন এর একদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নেই। কিন্তু বাস্তবে এই দাবি সঠিক নয়। Canada, Mexicoসহ বিশ্বের বহু দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বা চালু রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এই ঘটনাকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প আবারও অভিবাসন ইস্যুকে সামনে এনে কঠোর অবস্থান প্রদর্শন করছেন।
মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই মন্তব্যকে “বিদ্বেষমূলক” ও “বর্ণবাদী” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য শুধু সামাজিক বিভাজনই বাড়ায় না, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আরও আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে চলমান কৌশলগত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের মন্তব্য কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।