পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও পাবনার তে বসেছে ব্যতিক্রমী মাংসের হাট। কোরবানির দান হিসেবে পাওয়া কিংবা কসাইয়ের কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে অর্জিত মাংস বিক্রি করতে এসব অস্থায়ী হাটে ভিড় করেন অনেক মানুষ। বাজারদরের তুলনায় কম দামে মাংস বিক্রি হওয়ায় নিম্নআয়ের ক্রেতাদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা এবং শুক্রবার সকালে শহরের রেলগেট এলাকা, ফকিরের বটতলা ও রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন স্থানে এসব হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়। সেখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা সাধারণ বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম।
মাংস বিক্রেতাদের অনেকেই জানান, তারা ঈদের দিন ও পরদিন বিভিন্ন বাড়িতে কসাইয়ের কাজ করে বা দান হিসেবে মাংস পেয়েছেন। পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত অংশ বিক্রি করতে হাটে এসেছেন। কেউ কেউ আবার সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মাংস বিক্রি করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে ক্রেতাদের মতে, বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এই হাট তাদের জন্য স্বস্তির সুযোগ তৈরি করেছে। কম আয়ের মানুষরা এখানে তুলনামূলক কম দামে মাংস কিনতে পারছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঈশ্বরদীতে ঈদের দিন ও পরদিন বসা এই মাংসের হাট বহু বছরের পুরোনো একটি সামাজিক চিত্র। এখানে বিক্রেতা ও ক্রেতা—উভয় পক্ষই সাধারণত নিম্নআয়ের মানুষ হওয়ায় পারস্পরিকভাবে উপকৃত হন। ফলে প্রতিবছরই ঈদের সময় এই ব্যতিক্রমী হাট স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।