28 C
Dhaka
বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

বদলি থেকে টেন্ডার—গণপূর্তে বদরুল আলমের ‘প্রভাববলয়’ নিয়ে কেন উঠছে এত প্রশ্ন?

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। তার বিরুদ্ধে একদিকে যেমন প্রথম স্ত্রীর পারিবারিক অবহেলা, দ্বিতীয় বিয়ে ও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বদলি বাণিজ্য, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদনের মাধ্যমে উত্থাপিত হয়েছে।

বদরুল আলম খানের প্রথম স্ত্রী মিসেস জেসমিন অভিযোগ করেন, ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি স্বামীর কাছ থেকে চরম অবহেলার শিকার হয়েছেন। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। তার দাবি, দীর্ঘ সংসারজীবনে বদরুল আলম খান পরিবারের প্রতি কোনো দায়িত্ব পালন করেননি। বাবার এমন আচরণের কারণে তাদের ছোট মেয়ে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

জানা যায়, মিসেস জেসমিনের নামে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ডিসচার্জ সার্টিফিকেট প্রকাশ করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, তিনি ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তিনি স্বামীর অপেক্ষায় ছিলেন, অথচ বদরুল আলম খান অন্যত্র অবস্থান করছিলেন।

বদরুল আলম খানের দ্বিতীয় বিয়ে এবং অন্য এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে। প্রথম স্ত্রীকে অবহেলা করে তিনি অন্য এক নারীর সঙ্গে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। এছাড়া তার একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য নথিপত্র দুদকে আছে বলে জানা গিয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনের এসব অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি নির্মাণকাজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে পরিবর্তনের পর বদরুল আলম খানের প্রশাসনিক প্রভাব আরও বেড়ে যায়। কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এবং ভোলায় কর্মরত অবস্থায় সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে টেন্ডার, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে তিনি নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার কয়েকজন ঠিকাদারকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। কুমিল্লার একটি দরপত্রে ভুয়া সনদধারী ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ এবং “আসিফ” নামের এক ঠিকাদারকে পুলিশের বিভিন্ন থানা ভবন নির্মাণসহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য তদবিরের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসিক প্রকল্পের আরবরিকালচার কাজ বিধিবহির্ভূতভাবে অন্য বিভাগের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পুলিশের ১০৭ থানা নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভাষানটেক থানার ভবন নির্মাণের কাজও পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, বদরুল আলম খান, তার পরিবারের সদস্য এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা বিপুল সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকায় একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল স্থাপনা, খামারবাড়ি, ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভাই-বোনদের নামে সম্পদ স্থানান্তর, ডেভেলপার ব্যবসায় সম্পৃক্ততা এবং আয়কর নথিতে প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগও তদন্তের দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বদলি বাণিজ্য এবং বিভিন্ন প্রকল্প থেকে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে গত কয়েক মাসে প্রায় ১২২ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করা হয়েছে। এই অর্থ নিজের নামে না রেখে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে স্থানান্তর ও গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বদলি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাভার সার্কেল থেকে ঢাকা গণপূর্ত-১ সার্কেলে বদলির ক্ষেত্রে অন্য কর্মকর্তার নাম সুপারিশ থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে নিজের পছন্দের পদায়ন নিশ্চিত করেন তিনি। বদলির পরও অধিদপ্তরের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অতীতে ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় ভবনের নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগে তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল। এসব বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেন নি।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

প্রতিবেদন প্রকাশের পরই নড়েচড়ে বসল মন্ত্রণালয়, খালেকুজ্জামানকে ঘিরে তদন্ত কমিটি গঠন

গণপূর্ত অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (চলতি দায়িত্ব) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে ঘিরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ণ ও...