| Your Ads Here 100x100 |
|---|
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি ইরানে যান। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংকট নিরসন এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তার এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঈসমাইল বাগেই এর আগে অসিম মুনিরের তেহরান সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠক হতে পারে।
তবে বাগেই বলেন, অসিম মুনিরের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তান ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
এমন এক সময়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তেহরানে গেলেন, যখন হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কার্যত থমকে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে যে অনিরাপত্তা তৈরি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। তার এই বক্তব্য থেকে দুই দেশের মধ্যে চলমান বিরোধের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে গত কয়েক দিনে পাঁচ থেকে সাতটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার মাইনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনার কারণে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বন্ধের প্রচেষ্টায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা তৈরির জন্য পাকিস্তান বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়েছে।
গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। দুই দেশের মধ্যে বিরোধের বিভিন্ন বিষয় অমীমাংসিত থাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের পর এবার পঞ্চমবারের মতো তেহরান সফরে গেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির।
তার এবারের সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে নতুন কোনো অগ্রগতি হয় কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ আবারও সচল করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

