33.3 C
Dhaka
সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টে রিট, সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিতের আবেদন

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং পদ্মা সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা-মওসুসের পক্ষে জনস্বার্থে এই রিট পিটিশন দায়ের করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া।

 

রিটে বলা হয়েছে, পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে নদীর প্রাকৃতিক গঠন, নদীতীরের স্থিতিশীলতা এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এ ছাড়া পদ্মা সেতুসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে রিটে। নদী থেকে পরিকল্পনাহীনভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ ও আশপাশের এলাকার প্রাকৃতিক অবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করা এবং এ বিষয়ে যথাযথ নজরদারি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

 

রিট পিটিশনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

 

আবেদনে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাতে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নদীতীরের স্থিতিশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে পদ্মা নদীর সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীটি দেশের একটি বড় প্রাকৃতিক সম্পদ। এর পানি, মাছ ও নদীকেন্দ্রিক নানা সম্পদের ওপর নির্ভরশীল বহু মানুষের জীবন-জীবিকা।

 

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কিংবা নদীর তলদেশ ও তীরের গঠনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারাতে পারেন নদীতীরবর্তী মানুষ। এতে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হতে পারে।

 

অন্যদিকে, পদ্মা সেতু দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এ কারণে নদীর তলদেশ, প্রবাহ ও আশপাশের এলাকার স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণ এবং সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে রিটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা-মওসুসের মতে, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা পালন করা জরুরি। নদী ও পরিবেশের ক্ষতি প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে নিয়মিত নজরদারিও প্রয়োজন।

 

জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটের মাধ্যমে পদ্মা নদী রক্ষায় কার্যকর ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি হাইকোর্টের বিবেচনায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙনের ঝুঁকি কমানো এবং পদ্মা সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

ট্রাম্পের অনুমতির অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র, ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলার প্রস্তুতি

ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অভিযানের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। এখন...