28.2 C
Dhaka
বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা সরকারের

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে দৈনিক ১ হাজার ৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই ধাপে বাস্তবায়নের জন্য তৈরি করা হয়েছে এ কর্মপরিকল্পনা। এর মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশে গ্যাসের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচির প্রথম ধাপ ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় ধাপ ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। মোট ১৫০টি কূপের মধ্যে ১০৪টি নতুন করে খনন করা হবে। বাকি ৪৬টি কূপে সংস্কার বা ওয়ার্কওভারের কাজ করা হবে।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বাসসকে জানান, দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমানো এবং গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ক্রমবর্ধমান ব্যবধান কমিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনার মধ্যে ২৭টি প্রকল্পের আওতায় ৭৭টি কূপ এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অনুমোদিত চারটি কূপের সংস্কারকাজে সরকারের নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে।

অনুমোদিত ৫১টি কূপের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩২টির কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ১১টি কূপের কাজ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন। বাকি আটটি কূপের কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।

এ ছাড়া প্রক্রিয়াধীন ১০টি প্রকল্পের আওতায় আরও ২৬টি কূপের অনুমোদন চাওয়া হবে। অবশিষ্ট ৭৩টি কূপ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রকল্প কিংবা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অনুমোদনের আওতায় আনা হবে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, দেশের জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন কূপ থেকে পাওয়া গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমবে। এ লক্ষ্য পূরণে কূপ খননের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে কাজ শেষ হওয়া ৩২টি কূপ থেকে দৈনিক ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ১১টি কূপ থেকে দৈনিক অতিরিক্ত ৫৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

বর্তমানে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন ১১টি কূপের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) সাতটি কূপ রয়েছে। এগুলো হলো সুন্দলপুর দক্ষিণ-১, ভোলা উত্তর-৩, ভোলা উত্তর-৪, শাহবাজপুর উত্তর-পূর্ব-১, শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ দক্ষিণ-১।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস-২৯, বাখরাবাদ-৭ ও তিতাস-৩১ ডিপ কূপের কাজ চলছে। অন্যদিকে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) রশীদপুর-১৩ কূপের কাজও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ১০টি প্রকল্পের মধ্যে প্রস্তাবিত তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ খনন প্রকল্প অন্যতম। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হবে। এরপর কূপ দুটির খননকাজ সম্পন্ন করা হবে।

গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে বড় ব্যবধান

দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। কাগজে-কলমে প্রতিদিন ৫ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও বাস্তবে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

এ সরবরাহের মধ্যে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসছে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরকারী ইউনিটের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে সরবরাহ করা এ গ্যাস মোট সরবরাহের প্রায় ৪১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো সরবরাহ করছে দৈনিক ৮৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে দেশীয় সরকারি কোম্পানিগুলোর সরবরাহ ৭২৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যা মোট সরবরাহের ২৬ শতাংশ।

দেশীয় উৎপাদনের মধ্যে বিজিএফসিএল প্রতিদিন ৪৮০ মিলিয়ন ঘনফুট, এসজিএফএল ১৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাপেক্স ১০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।

আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেভরন দৈনিক ৮৬১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। ক্রিসএনার্জি বাংলাদেশ সরবরাহ করছে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ২৬২টি গ্যাসকূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১১৯টি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদনরত কূপগুলোর মধ্যে ৭৬টি পরিচালনা করছে দেশীয় কোম্পানি এবং ৪৩টি পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি।

প্রথম ধাপে কূপ খনন ও সংস্কারের অগ্রগতি

সরকারের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে বাপেক্সের জন্য ২১টি কূপ খনন ও সংস্কারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইতোমধ্যে নয়টির কাজ শেষ হয়েছে।

বিজিএফসিএলের জন্য প্রথম ধাপে ১৩টি কূপের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সাতটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে এসজিএফএলের ১৬টি কূপের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৩টির কাজ শেষ হয়েছে।

প্রথম ধাপের কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে আরও বড় পরিসরে কূপ খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ১০০টি কূপের কাজ করবে তিন কোম্পানি

দ্বিতীয় ধাপে মোট ১০০টি কূপ খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৬৯টি নতুন কূপ খনন এবং ৩১টি কূপ সংস্কার করা হবে।

এ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি কাজের দায়িত্ব পেয়েছে বাপেক্স। প্রতিষ্ঠানটি মোট ৬৮টি কূপের কাজ করবে। এর মধ্যে ৫২টি নতুন কূপ খনন এবং ১৬টি কূপ সংস্কার করা হবে।

বিজিএফসিএল দ্বিতীয় ধাপে ২১টি কূপের কাজ পরিচালনা করবে। এর মধ্যে নয়টি নতুন কূপ খনন এবং ১২টি কূপ সংস্কার করা হবে। অন্যদিকে এসজিএফএল ১১টি কূপের কাজ করবে। এর মধ্যে আটটি নতুন কূপ খনন এবং তিনটি কূপ সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ৫২টি নতুন কূপ খননের জন্য বাপেক্স ১৪টি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে এবং সাতটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এ পর্যায়ের আওতায় কোনো কূপের খননকাজ এখনো শেষ হয়নি।

বিজিএফসিএল নয়টি নতুন কূপ খননের জন্য চারটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকল্পই অনুমোদন পায়নি।

একইভাবে এসজিএফএল আটটি নতুন কূপ খননের জন্য পাঁচটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এ কোম্পানির প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর কোনোটিই এখনো অনুমোদিত হয়নি।

সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নতুন কূপ খনন ও সংস্কার কার্যক্রম।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ, স্বীকার করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে...