27.1 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর কারচুপির অভিযোগ নাকচ করল নির্বাচন কমিশন

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আনা ভোট কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ভোটের ফলাফল ভোটারদের ইচ্ছার সঠিক প্রতিফলন।

বুধবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নেতানিয়াহুর তোলা অভিযোগের আনুষ্ঠানিক জবাব দিল দেশটির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ।

গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ‘চেঞ্জ’ জোট—কোনোটিই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ইসরায়েলের দুটি আরব রাজনৈতিক দল—জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম। নেসেটের মোট ১২০টি আসনের মধ্যে দল দুটি এবার ১৯টি আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষেত্রেও আরব দলগুলোর সমর্থন নির্ণায়ক হতে পারে।

আরব দলগুলোর এই সাফল্যের পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি ও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে আসছেন নেতানিয়াহু। নির্বাচনের দিন নগদ অর্থসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা এবং আইনপ্রণেতাদের কাতার থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অতীতে নেতানিয়াহুর নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।

নেতানিয়াহুর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ৯ হাজার ৬৯টি ভোটকেন্দ্রের ভোট পর্যালোচনা ও নিরীক্ষা করেছে। কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে কমিশন আরও জানায়, “কমিটি নিশ্চিত যে নির্বাচনের ফলাফল ভোটারদের ইচ্ছার সঠিক প্রতিফলন। রাজনৈতিক দলগুলোর জমা দেওয়া সব অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা বা সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

এদিকে মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারভ-মিয়ারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হবে না। এর আগে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের প্রধান আরব দলগুলোর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। ওই অনুরোধের সঙ্গে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গালি বাহারভ-মিয়ারা তদন্তে বাধা দিচ্ছেন এবং বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির গুরুতর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

লিকুদ পার্টির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অ্যাটর্নি জেনারেল তদন্তে বাধা সৃষ্টি করছেন এবং বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির এই গুরুতর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”

তবে নির্বাচন কমিশনের তদন্তে কারচুপির কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় লিকুদ পার্টির অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট লিকুদ পার্টির কর্মকাণ্ডকে গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মধ্যপন্থী ও মধ্য-ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটাতে চাইছেন তিনি। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সমর্থন তাঁর জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এর আগে নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন আইজেনকোট। তাঁর আশঙ্কা, নেতানিয়াহু ঘনিষ্ঠ মিত্র তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাত শুরু করতে পারেন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নেতানিয়াহু জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে নতুন নির্বাচন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সময়ও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

নির্বাচনে কোনো জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন জটিল। আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং তাদের সমর্থন কোন জোটের দিকে যাবে, তার ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী সরকার গঠনের সম্ভাবনা। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান আরও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ার পরিকল্পনা সরকারের

মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শিল্পায়নকে গতিশীল...