27.1 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

নিরাপত্তাঝুঁকির অভিযোগে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন ডিজিই-পে, লাইসেন্স নিয়ে তদন্ত

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

নিরাপত্তাঝুঁকি এবং ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশাধিকারের অভিযোগে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ডিজিই-পে সার্ভিসেস লিমিটেডকে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৯ অক্টোবর এ সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তদন্ত শেষে ডিজিই-পের লাইসেন্সের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল ডিজিই-পের কার্যালয়ে নিরীক্ষা চালায়। নিরীক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিরা। এরপরই প্রতিষ্ঠানটিকে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ডিজিই-পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ এসেছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় লেনদেনব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্ত রাখা নিরাপদ মনে করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে লাইসেন্সের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি বা নির্দেশনা পাওয়ার কথা জানেন না ডিজিই-পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ মাহমুদ। তিনি জানান, গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। নিরীক্ষার সময় কিংবা পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছু জানায়নি।

রাশেদ মাহমুদ বলেন, এনপিএসবি-ভিত্তিক লেনদেন বন্ধ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সেবা চালু রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির মূল কারণ ছিল ভারতে অবস্থানরত তাদের উন্নয়ন দলের (ডেভেলপমেন্ট টিম) কার্যক্রম।

তিনি জানান, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা দল ডিজিই-পের কার্যালয় পরিদর্শন করে। পরে প্রতিষ্ঠানটির মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিরা। ওই সময় ডিজিই-পের সিস্টেমের উন্নয়ন ও হস্তান্তরের কাজ চলছিল। এ কাজে ভেন্ডর হিসেবে একটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

ডিজিই-পের সিইওর ভাষ্য, সিস্টেমের উন্নয়নকাজ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ডেভেলপমেন্ট টিমকে ন্যূনতম প্রবেশাধিকার দিতে হয়। তা না হলে প্রযুক্তিগত উন্নয়নকাজ করা সম্ভব নয়। ভারতীয় দলের প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি ছিল চলমান একটি প্রক্রিয়ার অংশ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকেও ভারতীয় ভেন্ডরের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিই-পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

রাশেদ মাহমুদ জানান, গত সোমবার রাতেই ভারতীয় ডেভেলপমেন্ট টিমের কাছ থেকে সিস্টেমের দায়িত্ব ও হস্তান্তরপ্রক্রিয়া বুঝে নিয়েছেন তারা। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে আপাতত সিস্টেমের উন্নয়নকাজ বন্ধ রয়েছে।

এনপিএসবিতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অন্যান্য সেবা চালু

বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল লেনদেনের সংযোগ স্থাপনকারী একটি কেন্দ্রীয় পেমেন্ট নেটওয়ার্ক। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে আন্তঃলেনদেন সম্পন্ন হয়। ফলে এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের গ্রাহকের সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতে পারেন।

২০২৩ সালের আগস্টে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স পায় ডিজিই-পে সার্ভিসেস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি দীপণ গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। বর্তমানে নিয়মিত ৬০০ থেকে ১ হাজার মার্চেন্টকে সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ফলে ডিজিই-পের এনপিএসবি-নির্ভর লেনদেন সেবা বন্ধ রয়েছে। তবে এনপিএসবির বাইরে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সেবা সচল আছে বলে জানিয়েছেন সিইও রাশেদ মাহমুদ।

নিরাপত্তাঝুঁকি, সার্ভারে প্রবেশাধিকার এবং প্রযুক্তিগত কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত চলছে। তদন্তে কী ধরনের অনিয়ম বা নিরাপত্তা ঘাটতি উঠে আসে এবং এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ার পরিকল্পনা সরকারের

মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শিল্পায়নকে গতিশীল...