| Your Ads Here 100x100 |
|---|
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, ২০০৩ সালে রাজনৈতিক তদবির ও গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগ দেন বদরুল আলম খান। পরবর্তীতে পদোন্নতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ঠিকাদারি বাণিজ্য, বদলি-পোস্টিং বাণিজ্য এবং সরকারি নির্মাণ প্রকল্পে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে একবার ওএসডি করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল হন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে নিজেকে আন্দোলনের কর্মী দাবি করে বর্তমানে সাভার গণপূর্ত সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, বদরুল আলম খান নিজেকে দুদক চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রভাব বিস্তার করেন এবং মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে তদবির ও অর্থ আদায় করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভোলা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, মিরপুর ও মানিকগঞ্জে একাধিক সরকারি ভবন, থানা, হাসপাতাল, মডেল মসজিদ ও পুলিশ ব্যারাক নির্মাণ প্রকল্পে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা কমিশন গ্রহণ করেন তিনি।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুলশানে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক প্লট, স্ত্রীর নামে গার্মেন্টস ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা এবং ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ এফডিআর থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার বদরুল আলম খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। দুদক জানিয়েছে, অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তর—যে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অবকাঠামো নির্মাণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতীক হওয়ার কথা, সেই প্রতিষ্ঠানই এখন দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ।
এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন—সাভার গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোহাম্মদ বদরুল আলম খান
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৩ সালে রাজনৈতিক তদবির ও গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন বদরুল আলম খান। চাকরির শুরু থেকেই রাজনৈতিক পরিচয়কে পুঁজি করে তিনি প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন।
ভোলা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে কর্মরত অবস্থায়—
✔ বড় সরকারি প্রকল্পের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ
✔ পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া
✔ শতকরা ৫–১৫ ভাগ পর্যন্ত কমিশন আদায়
এভাবেই গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
ভোলা জেলায় আদালত ভবন, হাসপাতাল, থানা, ভূমি অফিস ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।
ময়মনসিংহে অনিয়মের অভিযোগে এক পর্যায়ে তাকে ওএসডি করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শাস্তি কার্যকর হয়নি। বরং পরবর্তীতে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন পান।
২০২৪ সালের পর তাকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাভার গণপূর্ত সার্কেলে পদায়ন করা হয়, যার আওতায়—
✔ মিরপুর
✔ গাজীপুর
✔ মানিকগঞ্জ
✔ সাভার
এই চারটি অঞ্চলের শত শত কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে তিনি অধিকাংশ কাজ ওটিএম পদ্ধতিতে বিক্রি করে কমিশন আদায় করেন।দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে—গুলশানে একাধিক ফ্ল্যাট:বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক প্লট,স্ত্রীর নামে গার্মেন্টস ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা,ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগে আরও বলা হয়—
✔ নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলির নামে কোটি টাকা আদায়
✔ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীদের কাছ থেকে ঘুষ
✔ পদায়নের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়
এই সবকিছুর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।দুদক জানিয়েছে—অভিযোগ গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হবে প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত বদরুল আলম খান এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য দেননি।

