22 C
Dhaka
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

২০০ টাকা মুচলেকায় হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদীর জামিন

জনপ্রিয়
পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং এসআই সন্তোষকে পুড়িয়ে মারার মন্তব্য ঘিরে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে হবিগঞ্জের বিচারিক হাকিম আব্দুল মান্নানের আদালত ২০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাহদী হাসান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মাহদী হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। তার আইনজীবী আব্দুল মালেক হৃদয় বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে যে মামলা করা হয়েছে, তাতে অধিকাংশ ধারা জামিনযোগ্য। শুনানি শেষে আদালত তার মক্কেলের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মাহদী হাসানকে আটক করে। পরে পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন আখতার তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মাহদী হাসান আটকের খবরে হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তার মুক্তির দাবিতে তারা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে রাতভর বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। একই দাবিতে রাজধানীতেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাহদীর জামিন ঘিরে রাতভর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের চাপে রাত ১২টার দিকে তাকে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবনে নেওয়া হলেও আদালত না বসায় তখন জামিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। শনিবার সকাল পর্যন্ত নেতা-কর্মীরা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মাহদীর মুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
এদিকে বানিয়াচংয়ের ঘটনা নিয়ে মাহদীর আলোচিত মন্তব্য প্রসঙ্গে আরিফ তালুকদার দাবি করেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো কোনো মামলার বিষয় হতে পারে না, এটি জুলাই ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির কক্ষে ধারণ করা মাহদী হাসানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কির সময় তাকে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে হেফাজতে নেয় এবং মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতের আদেশে জামিন পাওয়ায় আপাতত কারামুক্ত হলেও ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

শরীফুল রাজ ও পরীমনির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে, এরপর বিচ্ছেদ—সবকিছুই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। বিচ্ছেদের...