ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার অপচেষ্টা রয়েছে। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে টানা ১৩ দিন ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, জাতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সরকার ও ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করছে, আবার কেউ কেউ রাজতন্ত্র পুনর্বহালের কথাও বলছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এসব বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ থেকে ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এছাড়া দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং তথাকথিত ‘ধ্বংসাত্মক শক্তি’র বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান গভীর সংকটে পড়েছে। তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন, যদিও সামরিক হস্তক্ষেপের কথা স্পষ্ট করেননি।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি প্রাণহানির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘও উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।