30 C
Dhaka
রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২৬

ভিক্ষার আড়ালে সম্পদের পাহাড়: ইন্দোরে কোটিপতি ভিক্ষুকের চাঞ্চল্যকর কাহিনি

জনপ্রিয়

চাকার ওপর বসা এক নীরব ভিক্ষুক—দেখতে নিঃস্ব, অথচ বাস্তবে কোটিপতি। ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরের সরাফা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করা শারীরিক প্রতিবন্ধী মাঙ্গিলালের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানের সময় গভীর রাতে তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে সাধারণ ভিক্ষুক মনে করা হলেও তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন বাস্তবতা। কর্মকর্তারা জানান, মাঙ্গিলাল কারও কাছে হাত পাততেন না। ঠেলাগাড়িতে নীরবে বসে থাকতেন, আর মানুষের সহানুভূতি থেকেই পেতেন দান। এই ‘নীরব ভিক্ষা’ কৌশলে তার দৈনিক আয় ছিল প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
তবে ভিক্ষা ছিল তার মূল আয়ের উৎস নয়। তদন্তে জানা যায়, এই অর্থ তিনি নিয়মিত বিনিয়োগ করতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদে টাকা ধার দিয়ে সুদ আদায় করতেন মাঙ্গিলাল। ধারণা করা হচ্ছে, বাজারে তার ধার দেওয়া টাকার পরিমাণ ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা, যার বিপরীতে প্রতিদিন সুদ বাবদ আয় হতো ১ থেকে ২ হাজার টাকা।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো—তিনি ইন্দোর শহরের অভিজাত এলাকায় তিনটি বাড়ির মালিক। এর মধ্যে একটি তিনতলা ভবন। এছাড়া তার রয়েছে তিনটি অটোরিকশা ও একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি, যা ভাড়ায় দেওয়া হয়। এমনকি শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি সুবিধা নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় একটি ফ্ল্যাটও পেয়েছেন, যদিও তার আগেই একাধিক সম্পত্তি ছিল।
নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্র জানান, মাঙ্গিলালকে বর্তমানে উজ্জয়িনীর একটি সেবাশ্রমে রাখা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি এবং সুদে টাকা লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেসব ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছেন, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইন্দোরের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ভিক্ষার আড়ালে আর কত অজানা গল্প লুকিয়ে আছে?
- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

এসএসসি পরীক্ষার্থীর ফোনে সাড়া, শব্দ দূষণ বন্ধে সরাসরি মাঠে এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:সাভারের ইসলাম নগর এলাকায় শব্দ দূষণের কারণে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল এসএসসি পরীক্ষার্থী ইসরাত জাহান আনিশার। বাসার পাশের একটি...